হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার এক সহকারী উপপরিদর্শকের (এএসআই) কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে ঘুষ নেওয়া নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করতে শোনা যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, চুনারুঘাট উপজেলার রানীগাঁও বাজার এলাকায় কয়েকজন মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন এএসআই মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসাইন। একপর্যায়ে তিনি পুলিশের পোশাক পরা এবং ঘুষ নেওয়া প্রসঙ্গে এমন একটি মন্তব্য করেন, যা ভিডিওতে ধারণ করা হয়।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, একটি মামলার তদন্তের কাজে রানীগাঁও বাজারে গিয়েছিলেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। সেখানেই স্থানীয় এক ব্যক্তি তাঁর বক্তব্য মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন, বিভিন্ন মামলার তদন্তের ক্ষেত্রে এএসআই ইলিয়াস হোসাইনের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি ও হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, এর আগে একটি শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণচেষ্টার মামলার তদন্ত নিয়েও ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। তাঁদের দাবি, মামলার একটি পক্ষের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নেওয়া এবং বাদীপক্ষকে মামলা প্রত্যাহারে চাপ দেওয়ার মতো অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগও তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
এ ছাড়া স্থানীয় কয়েকজন দাবি করেছেন, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার পরিচয় দিয়ে এএসআই ইলিয়াস হোসাইন থানার বিভিন্ন কাজে প্রভাব বিস্তার করেন। তবে এই দাবিরও স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ভাইরাল ভিডিওটির বিষয়ে এএসআই মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসাইনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে জানান। এরপর ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি দেখেছেন। বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে। ভিডিওতে কোন পরিস্থিতিতে ওই বক্তব্য দেওয়া হয়েছিল, তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানার চেষ্টা করা হবে বলেও জানান তিনি।
ভিডিওটির বক্তব্যের সত্যতা, সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট এবং এএসআইয়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো তদন্তের পরই প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে। পুলিশের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে ঘুষ বা অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নেয়, সেদিকেও নজর রয়েছে।