রবিবার, অক্টোবর ৪, ২০২৬
১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> রেমিট্যান্সের বড় উৎস মধ্যপ্রাচ্য, তবু আরবি ভাষা প্রশিক্ষণে অবহেলা কেন?

>> এলপিজির দাম এক লাফে বাড়ল ২৫২ টাকা, ১২ কেজির সিলিন্ডার ১,৮৩৭ টাকা

>> আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার এই হাল কেন?

>> সাতক্ষীরায় মাদক ব্যবসার অভিযোগে দুই বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর, আটক ২

>> ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণে মেয়রপ্রার্থী হিসেবে সেলিম উদ্দিন ও সাদিক কায়েমের নাম জানাল জামায়াত

>> ডাববোঝাই নছিমন অতিক্রম করতে গিয়ে সংঘর্ষ, প্রাণ গেল তিন মোটরসাইকেল আরোহীর

>> একাধিক দেশের নেতার সঙ্গে ট্রাম্পের ছবি প্রায় একই রকম কেন?

>> চট্টগ্রাম বন্দরের ৯ কনটেইনারে বিপজ্জনক রাসায়নিক, ধ্বংস হবে রূপগঞ্জে

>> গাজীপুরে সোয়েটার কারখানায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ৯ ইউনিট

>> শেখ হাসিনাকে ফেরানোর আইনি প্রক্রিয়া চলছে: দীনেশ ত্রিবেদী

আপনি পড়ছেন : অর্থনীতি

এলপিজির দাম এক লাফে বাড়ল ২৫২ টাকা, ১২ কেজির সিলিন্ডার ১,৮৩৭ টাকা


Sifat Islam Sohag ৪ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:১৩



এলপিজির দাম এক লাফে বাড়ল ২৫২ টাকা, ১২ কেজির সিলিন্ডার ১,৮৩৭ টাকা


ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি কেজি এলপিজির দাম বেড়েছে ২১ টাকা। ফলে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৩৭ টাকায়। আগে এই সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা।

রোববার নতুন দাম ঘোষণা করে বিইআরসি। নির্ধারিত মূল্য ওই দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। এর আগে গত মাসে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমানো হয়েছিল।

বিইআরসির নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, প্রতি কেজি এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫৩ টাকা ৬ পয়সা। আগের দাম ছিল ১৩২ টাকা ১২ পয়সা। এই দর অনুযায়ী বিভিন্ন ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য নির্ধারিত হবে।

বাজারে সরবরাহ সংকটের অভিযোগ

নির্ধারিত দাম বাড়ানোর পাশাপাশি বাজারে এলপিজির সরবরাহ নিয়েও সংকটের অভিযোগ রয়েছে। গত তিন সপ্তাহ ধরে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় ১২ কেজির সিলিন্ডার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা।

বিইআরসি প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করলেও বাজারে সেই মূল্য পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে বাড়তি খরচের চাপে পড়ছেন সাধারণ ভোক্তারা।

দেশে বাসাবাড়িতে রান্নার কাজে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। গ্যাসসংকটের কারণে অনেক পরিবার বিকল্প হিসেবে এলপিজির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ফলে সিলিন্ডারের দাম বাড়ায় তাঁদের সংসার খরচ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এর আগেও কয়েক দফা বেড়েছিল দাম

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম বেড়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে দেশের বাজারেও। গত এপ্রিলের শুরুতে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৩৮৭ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। পরে একই মাসের ১৯ তারিখে দাম আরও ২১২ টাকা বাড়ানো হয়।

পরবর্তী সময়ে জুন ও জুলাই মাসে টানা দুই মাস এলপিজির দাম কমানো হয়েছিল। তবে এবার আবারও বড় অঙ্কে মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

সরকারি এলপিজি ও অটোগ্যাসের নতুন দর

বেসরকারি খাতের এলপিজির দাম বাড়ানো হলেও সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা সাড়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৮২৫ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও বাড়ানো হয়েছে। প্রতি লিটার অটোগ্যাসের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা। আগে এই দাম ছিল ৭৩ টাকা ৯ পয়সা।

যেভাবে নির্ধারিত হয় এলপিজির দাম

২০২১ সালের এপ্রিল থেকে বিইআরসি দেশে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে। এলপিজি উৎপাদনের প্রধান উপাদান প্রোপেন ও বিউটেন বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়।

সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠান আরামকো প্রতি মাসে এই দুই উপাদানের মূল্য প্রকাশ করে, যা সৌদি কার্গো প্রাইস (সিপি) নামে পরিচিত। এই মূল্যকে ভিত্তি ধরে আমদানি ব্যয় ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক হিসাব বিবেচনায় নিয়ে দেশের বাজারে এলপিজির দাম সমন্বয় করে বিইআরসি।

নতুন করে দাম বাড়ানোর ফলে রান্নার গ্যাসের পেছনে সাধারণ মানুষের মাসিক ব্যয় আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে বাজারে সরবরাহ ঘাটতি ও নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে বিক্রির অভিযোগের মধ্যে ভোক্তাদের দুর্ভোগ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।