সোমবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
৬ আশ্বিন ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> ‘বন্ধুর লাশ নিয়ে হাসপাতালে আছি, সে আর ফোন ধরবে না’

>> গরমে শ্রমিক সুরক্ষায় বিনিয়োগ, চার বছরেই উঠে আসতে পারে খরচ

>> জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে ফেসবুকে পোস্ট, ছাত্রদল নেতাকে শোকজ

>> লিটারে ২০ টাকা জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পাম্পে ভিড়, ক্ষোভ গ্রাহকদের

>> ডিসেম্বরের মধ্যে আলোচনা শেষ করতে চায় সংবিধান সংশোধন কমিটি: সালাহউদ্দিন আহমদ

>> কাবাডিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারাল বাংলাদেশ

>> কাউকে কিছু জিজ্ঞাসা করলেই বলছেন, ‘আমি কিছু জানি না’

>> মাঝপথে সংবিধান সংশোধন কমিটির সভা বর্জন করল রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন

>> নওগাঁয় দুই বছর পর কলেজে যোগ দিতে গিয়ে হামলার শিকার অধ্যক্ষ

>> ট্রাম্পের শুল্কের হুমকি ও রাশিয়ার তেল—দুই দিক সামলানো কঠিন হচ্ছে ভারতের

আপনি পড়ছেন : অর্থনীতি

গরমে শ্রমিক সুরক্ষায় বিনিয়োগ, চার বছরেই উঠে আসতে পারে খরচ


২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১২:৪৮



গরমে শ্রমিক সুরক্ষায় বিনিয়োগ, চার বছরেই উঠে আসতে পারে খরচ


জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পোশাক কারখানায় অতিরিক্ত গরমে শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। তবে শ্রমিকদের সুরক্ষায় কারখানায় শীতলীকরণ ব্যবস্থা উন্নত করতে বিনিয়োগ করলে তা উৎপাদক ও বৈশ্বিক পোশাক ব্র্যান্ড—দুই পক্ষের জন্যই আর্থিকভাবে লাভজনক হতে পারে। এমন বিনিয়োগের অর্থ চার বছরের মধ্যেই উঠে আসতে পারে বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে।

রোববার প্রকাশিত প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্লোবাল লেবার ইনস্টিটিউটের গবেষকেরা এ তথ্য জানিয়েছেন। গবেষণায় বাংলাদেশের পোশাক কারখানায় প্রতিফলক রং ব্যবহার, ছাদে তাপ নিরোধক ব্যবস্থা এবং বায়ু চলাচল উন্নত করার মতো পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে।

গবেষকেরা মনে করেন, এই বিনিয়োগের পুরো খরচ সরবরাহকারীদের ওপর না চাপিয়ে পণ্যের দামের মাধ্যমে ব্র্যান্ডগুলোও এর একটি অংশ বহন করতে পারে।

ঢাকার আটটি পোশাক কারখানায় ছয় মাস ধরে তাপমাত্রা পরিমাপ করে গবেষকেরা দেখতে পেয়েছেন, কারখানার ভেতরের তাপমাত্রা অনেক সময় বাইরের তাপমাত্রার চেয়েও বেশি থাকে। ইস্তিরি ও ফিনিশিং বিভাগের শ্রমিকেরা সবচেয়ে বেশি গরমের মধ্যে কাজ করেন।

অতিরিক্ত তাপের কারণে এসব কারখানার বার্ষিক আয়ের প্রায় ৪ দশমিক ১ শতাংশ ক্ষতি হয়েছে বলেও গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকির পাশাপাশি পোশাক উৎপাদক ও বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলোরও আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রতিবছর প্রায় ৩ কোটি ১০ লাখ পূর্ণকালীন চাকরির সমপরিমাণ কর্মঘণ্টা হারিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে এ অঞ্চলের জিডিপি প্রায় ৭ শতাংশ কমে যেতে পারে।

গ্লোবাল লেবার ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক জেসন জাড বলেন, কারখানায় তাপ মোকাবিলায় কতটা বিনিয়োগ প্রয়োজন এবং কত সময়ে সেই অর্থ উঠে আসতে পারে, তা জানা গেলে ক্রেতা ও সরবরাহকারী উভয় পক্ষই সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

গবেষকদের সঙ্গে আলোচনায় পোশাক ব্র্যান্ডগুলো কারখানার তাপ মোকাবিলায় বিনিয়োগের সম্ভাব্য সময় ও খরচ সম্পর্কে জানতে আগ্রহ দেখিয়েছে। পাশাপাশি গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো, প্রশমন ব্যয় ও বিকল্প জ্বালানির বিষয়েও উৎপাদনকারীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

এর আগে এক গবেষণায় বলা হয়েছিল, অতিরিক্ত গরম ও বন্যার কারণে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, পাকিস্তান ও ভিয়েতনামের পোশাক রপ্তানি আয় থেকে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।

এদিকে আমেরিকান অ্যাপারেল অ্যান্ড ফুটওয়্যার অ্যাসোসিয়েশন সম্প্রতি চরম তাপমাত্রা থেকে শ্রমিকদের সুরক্ষায় নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির মতে, কোনো কারখানার পক্ষে এককভাবে বিনিয়োগ করে পর্যাপ্ত আর্থিক সুফল পাওয়া সবসময় সম্ভব নাও হতে পারে। তাই শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ উন্নয়নের ব্যয়ের একটি অংশ ব্র্যান্ডগুলোর বহন করা উচিত।

সংগঠনটির নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট নেট হারম্যান বলেন, অতিরিক্ত তাপমাত্রা ধীরে ধীরে নতুন বাস্তবতায় পরিণত হচ্ছে। তাই সরবরাহব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ শ্রমিকদের সুরক্ষায় এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।