আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সংবিধান সংশোধন নিয়ে বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা শেষ করার লক্ষ্য নিয়েছে জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন–সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি। ইতিমধ্যে কমিটি প্রতিবেদন তৈরির কাজও শুরু করেছে। রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক শেষে এ কথা জানান কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী ২৬টি রাজনৈতিক দল ও জোটকে রোববারের মতবিনিময় সভায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কমিটির হিসাবে, ১৫টি দলের প্রতিনিধি সরাসরি সভায় অংশ নেন। একটি দল লিখিত বক্তব্য দেয় এবং আরেকটি দলের প্রতিনিধি অসুস্থতার কারণে উপস্থিত হতে পারেননি। সব মিলিয়ে ১৭টি দলের কার্যকর অংশগ্রহণ ছিল বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পর্যায়ক্রমে জুলাই সনদ প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি, সাবেক বিচারক, আইনজীবী, সংবিধানবিশেষজ্ঞ, জুলাই যোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্য, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নেওয়া হবে। জুলাই সনদের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ কোনো পরিপূরক প্রস্তাব এলে সেগুলোও পরামর্শ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
তিনি বলেন, কমিটি দ্রুত কাজ এগিয়ে নিতে সম্ভব হলে প্রতি সপ্তাহে একটি করে বৈঠক আয়োজন করবে। বিভিন্ন পক্ষের মতামত নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করে তা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। এরপর আইন মন্ত্রণালয় সংবিধান সংশোধনের বিল সংসদে আনবে বলে জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, ভিন্নমত বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’সহ সেভাবেই তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে। সবার সঙ্গে আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করতে চান তাঁরা।
জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ কয়েকটি দল এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছে না—এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রক্রিয়াটি একপক্ষীয় নয়। জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেনি এমন নিবন্ধিত বা অনিবন্ধিত দলও আলোচনায় অংশ নিতে চাইলে বিশেষ কমিটির কাছে তাদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। লিখিত বক্তব্য দিলেও তা বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি।
বিরোধী দল বিশেষ কমিটিতে অংশ না নিলেও সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে এলে তারা অংশ নেবে না—এমন কোনো বক্তব্য এখনো দেওয়া হয়নি বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।