কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সবাইকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামত ও তথ্য দ্রুত সংগ্রহ করেছে পুলিশ।
রোববার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর ১২ ঘণ্টার মধ্যেই ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা অপরাধের কথা স্বীকার করেছে বলেও জানান তিনি। তবে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম আইন অনুযায়ী চলবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বয়স নিহত অপ্রতিমের চেয়ে কয়েক বছর বেশি। তাদের আচরণ অনেকটা কিশোর অপরাধীদের মতো। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি তদন্তের স্বার্থে আরও কিছু আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
তিনি পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত প্রতিবেদনও দ্রুত দেওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সমাজে দীর্ঘদিন ধরে নৈতিক অবক্ষয় ও বিভিন্ন ধরনের অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে। অনেক অপরাধের পেছনে মাদক ও জুয়ার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। এসব সমস্যা মোকাবিলায় পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সচেতন মানুষকে আরও সক্রিয় হতে হবে।
শিশু-কিশোরদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন ইতিবাচক কার্যক্রম বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
গত শুক্রবার দুপুরে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিল সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী অপ্রতিম। এরপর সে নিখোঁজ হয়। প্রায় ২২ ঘণ্টা পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
অপ্রতিম কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের শিক্ষার্থী ছিল। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার কোটবাড়ি এলাকায় বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকত সে। এ ঘটনায় পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।