শনিবার বগুড়া সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, দেশে গ্যাস, তেল ও জ্বালানির সংকট চলছে। সংসদে বিষয়টি তুলে ধরে সংকট সমাধানে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের কারিগরি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে সরকারের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার সুযোগ চাওয়া হলেও সেই প্রস্তাবে সরকার সাড়া দেয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, সময়মতো বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হলে বর্তমান পরিস্থিতি এতটা জটিল হতো না। বিরোধী দল সরকারকে সহযোগিতা করতে চেয়েছিল। কিন্তু সেই উদ্যোগ গ্রহণ না করায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিরোধী দলগুলোকে বিভিন্ন কর্মসূচি দিতে হয়েছে।
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলেও মন্তব্য করেন জামায়াতের আমির। তাঁর মতে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিল্প খাত। দীর্ঘদিন জ্বালানি সরবরাহে সমস্যা থাকলে কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনীতিতেও চাপ আরও বাড়তে পারে।
এর আগে জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকট নিয়ে আলোচনায় শফিকুর রহমান সরকারি ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে একটি কার্যকর ‘সেল’ বা টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দেন। সংকট মোকাবিলায় তাঁর কারিগরি বিশেষজ্ঞ দলকে সরকারের সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাবও তিনি জানিয়েছিলেন।
এদিকে সংসদে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৭ সালে পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি, ২০২৮ সালে আরও উন্নতি এবং ২০৩০ সালের মধ্যে জ্বালানি সংকট থেকে বেরিয়ে আসার লক্ষ্য রয়েছে।
বগুড়ার শিল্পায়ন নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বগুড়া দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগকেন্দ্র। একসময় জেলাটিকে ‘মিনি শিল্পনগরী’ বলা হলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও প্রত্যাশা অনুযায়ী শিল্পায়ন হয়নি।
মতবিনিময় সভায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরে শফিকুর রহমান বগুড়া জেলা ও মহানগর জামায়াতের রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন। একই দিনে তিনি শহীদ আব্দুল মালেক ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন।