জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় তরিকুল ইসলাম রুবেল হত্যা মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলমের আদালতে এ মামলার শুনানি শেষে এই আদেশ দেওয়া হয়। রাজধানীর কাফরুল থানায় দায়ের করা রুবেল হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছিল পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাফরুল থানার এসআই জহুরুল ইসলাম গত ৭ সেপ্টেম্বর কলিমউল্লাহকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। ওই সময় আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য ১০ সেপ্টেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়, কারাগারে থাকা কলিমউল্লাহর বিরুদ্ধে মামলার ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ততার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রাতে কাফরুল এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর গুলির ঘটনা ঘটে। এতে তরিকুল ইসলাম রুবেলসহ কয়েকজন হতাহত হন। মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান রুবেল। পরে তাঁর স্বজন আতিউর রহমান কাফরুল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৫৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।
শুনানিতে কলিমউল্লাহর আইনজীবী মহসিন রেজা তাঁর গ্রেপ্তার দেখানোর বিরোধিতা করেন। তিনি দাবি করেন, কলিমউল্লাহ কোনো রাজনৈতিক দলের পদে ছিলেন না; তিনি একজন শিক্ষক এবং শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেছেন।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন দাবি করেন, কলিমউল্লাহ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতার তথ্য রয়েছে।
আদালতে নিজের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেয়ে কলিমউল্লাহ বলেন, ছাত্রজীবন থেকে শিক্ষকতা—কোনো সময়ই তিনি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তিনি আরও দাবি করেন, জুলাই আন্দোলনের সময় আবু সাঈদ হত্যার প্রতিবাদ করেছিলেন এবং আন্দোলনের পক্ষে কথা বলেছেন। নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন তিনি।
উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহকে তরিকুল ইসলাম রুবেল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
এর আগে ২০২৫ সালের ৭ আগস্ট রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে ডিবি পুলিশ কলিমউল্লাহকে গ্রেপ্তার করে। ওই মামলায় জামিন আবেদন নাকচ করে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর থেকেই তিনি কারাগারে রয়েছেন।