বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> হামের উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ছাড়াল ১ হাজার

>> জুলাই হত্যা মামলায় সাবেক ভিসি কলিমউল্লাহকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ

>> ব্রিকস সম্মেলনে যাচ্ছে না বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধি

>> প্রায় নগ্ন হয়ে বিজ্ঞাপনে সিডনি সুইনি, ফের শুরু বিতর্ক

>> মেঘনার তীরে পাড়ধসে নদীতে নিখোঁজ দুই বন্ধু

>> গণিত, বিজ্ঞান ও পড়ার দক্ষতায় বিশ্বসেরা সিঙ্গাপুর, শীর্ষে এশিয়ার দাপট

>> এক্সপ্রেসওয়েতে দুর্ঘটনায় ট্রাকে আটকা চালক, জীবিত উদ্ধার

>> চীনকে ঠেকাতে বড় যুদ্ধজাহাজ নয়, ছোট নৌবহরের দিকে তাইওয়ান

>> ধানমন্ডির পর মহাখালীতেও আগুন, ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের ৩ ইউনিট

>> ভোট ঘিরে সহিংসতার আশঙ্কা, পুলিশের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ

আপনি পড়ছেন : স্বাস্থ্য

হামের উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ছাড়াল ১ হাজার


Rabeya ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকাল ৪:১৫



হামের উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ছাড়াল ১ হাজার


দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হাম মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ৯ জনে দাঁড়িয়েছে।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনের হিসাবে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। এ সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া সাতজনের মধ্যে তিনজন ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। এছাড়া সিলেট, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে একজন করে মারা গেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ৯০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিত হামে মারা গেছেন ১০০ জন। সব মিলিয়ে হাম ও এর উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ৯ জন।

এদিকে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ১৬৫ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত উপসর্গযুক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৪৫ জনে।

একই সময়ে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ২৯ জনের। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট ১৯ হাজার ৯৩৩ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, এই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫০৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ৪২ হাজার ৮৮৮ জন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম যেকোনো বয়সের মানুষকে আক্রান্ত করতে পারে, তবে শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। চলমান প্রাদুর্ভাবের সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হওয়া মৃত্যুগুলোও পরিস্থিতি মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি বছর দেশে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যু উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। তাঁদের কেউ কেউ টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি, দেরিতে পদক্ষেপ নেওয়া এবং স্বাস্থ্যসেবার প্রস্তুতির দুর্বলতাকে পরিস্থিতি অবনতির কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

চলতি বছরের শুরুতে সংক্রমণ বাড়তে থাকলেও মার্চের পর পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হয়। পরে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এপ্রিল ও মে মাসজুড়ে গণটিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়। তবে এই কর্মসূচিতেও বিপুলসংখ্যক শিশু টিকার আওতার বাইরে থেকে যায় বলে স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

আগের বছরগুলোর তুলনায় এবারের পরিস্থিতির ব্যাপকতা আরও স্পষ্ট। ২০২৫ সালে দেশে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছিল ১৩২ জনের শরীরে। এর আগের বছরগুলোতেও শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল কয়েকশর মধ্যে। কিন্তু চলতি বছরে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার অনেক বেড়ে গেছে।

ফলে দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণে থাকা হাম এখন দেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।