শনিবার, সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬
২১ ভাদ্র ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> নজরুলের চেতনা নতুন প্রজন্মে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান

>> সাভারে মাদ্রাসাছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগ, দুই শিক্ষকসহ গ্রেপ্তার ৫

>> বিদ্যুৎমন্ত্রীর বাড়িতে বিদ্যুৎ থাকে, সাধারণ মানুষের বাড়িতে থাকে না: শফিকুর রহমান

>> এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে মরদেহ, মেয়ের বিয়ের টাকা নিয়ে আর ফেরা হলো না ইসমাইলের

>> সংসদ কার্যকর থাকলে লংমার্চ গণআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী: জহির উদ্দিন স্বপন

>> চুরির অভিযোগে দুই তরুণের মাথার চুল কেটে সড়কে ঘোরানোর অভিযোগ

>> পুকোভস্কিকে ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া

>> আইনের ফাঁকফোকরে ছিনতাইকারীদের আটকে রাখা যাচ্ছে না: আইজিপি

>> চট্টগ্রামের ইতিহাস-ঐতিহ্য উদযাপনে ‘সিলন আমার শহর’ আয়োজন

>> অভিজ্ঞতা ছাড়াই ব্যাংকিং খাতে চাকরি, নিয়োগ ১০০ জনের বেশি

আপনি পড়ছেন : রাজনীতি

বিদ্যুৎমন্ত্রীর বাড়িতে বিদ্যুৎ থাকে, সাধারণ মানুষের বাড়িতে থাকে না: শফিকুর রহমান


Rabeya ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:০৯



বিদ্যুৎমন্ত্রীর বাড়িতে বিদ্যুৎ থাকে, সাধারণ মানুষের বাড়িতে থাকে না: শফিকুর রহমান


বিদ্যুৎ সংকট, দ্রব্যমূল্য ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, সাধারণ মানুষ যখন বিদ্যুৎ সংকটে ভুগছে, তখন রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বাসাবাড়ি ও সরকারি স্থাপনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।

শনিবার বিকেলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী সদর উপজেলার মহিপাল এলাকায় ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

শফিকুর রহমান বলেন, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে থাকলেও বিদ্যুৎমন্ত্রী ও সংসদে বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে না। একই সঙ্গে তিনি শাপলা চত্বর ও পিলখানার হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যেসব মামলার বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, সেগুলোর অনেকগুলো এখন আর এগোচ্ছে না।

সরকারের বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাসঘাতকতার’ অভিযোগ তুলে জামায়াত আমির বলেন, দেশে নতুন করে কর্তৃত্ববাদী পরিস্থিতি তৈরি হলে তা মেনে নেওয়া হবে না। তিনি বলেন, কোনো পক্ষের হুমকি বা চাপ তাঁরা মেনে নেবেন না এবং বাধার মুখে পড়লে রাজনৈতিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

দেশের তরুণদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেওয়ার প্রত্যাশা জানিয়ে তিনি বলেন, এ দেশই তাঁদের স্থায়ী ঠিকানা এবং দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব তরুণদের হাতে দিতে চান তাঁরা।

সমাবেশে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী পরিবর্তন হয়নি। তিনি র‍্যাবের পরিবর্তে নতুন নামে একই ধরনের কাঠামো চালুর অভিযোগ তোলেন। জ্বালানি তেলের দাম, দুর্নীতি এবং ১১ দলীয় জোটের নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ নিয়েও তিনি সরকারের সমালোচনা করেন। লংমার্চ শেষে ঢাকায় সমাবেশ করে নতুন কর্মসূচি ঘোষণার কথাও জানান তিনি।

এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করছে না। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের পরিবর্তন হলেও বর্তমান সরকার একই ধরনের পদ্ধতিতে দেশ পরিচালনা করছে। তিনি শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ভবিষ্যতের আন্দোলন-সংগ্রামে জনগণকে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দেশে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট এবং সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। তিনি বিএনপির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক সমঝোতার অভিযোগও তোলেন। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা কমে গেছে।

খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করার অভিযোগ তুলে সরকারের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, জনগণের ভোটের রায় উপেক্ষা করা হলে রাজনৈতিকভাবে এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া হবে।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, অতীতে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাবিতে যে আন্দোলন হয়েছে, তাঁদের লংমার্চও একই দাবির ধারাবাহিকতার অংশ। তিনি ফেনীর মহিপালের পথসভায় বিপুল মানুষের উপস্থিতির কথা তুলে ধরেন।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের আন্দোলন লংমার্চের মাধ্যমে শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি কর্মসূচিতে জুলাই আন্দোলনে নিহতদের স্মরণ করা হবে।

এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধানে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। অন্যদিকে দলটির সদস্যসচিব আখতার হোসেন সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানান।

এর আগে শনিবার সকালে ঢাকার শাপলা চত্বর থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ শুরু হয়। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ধরে লংমার্চটি চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। পথে কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, চৌদ্দগ্রাম ও ফেনীসহ বিভিন্ন স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।

লংমার্চের আয়োজকদের ঘোষিত ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সারের সংকট সমাধান, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনে দলীয় প্রভাব বন্ধ করা।

লংমার্চ ও পথসভাকে কেন্দ্র করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচলেও প্রভাব পড়ে। ফেনী এলাকায় চট্টগ্রামমুখী যানবাহনকে ঢাকামুখী লেন দিয়ে চলাচল করতে হওয়ায় মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।