একসময় অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ক্রিকেটের বড় ভবিষ্যৎ হিসেবে দেখা হয়েছিল উইল পুকোভস্কিকে। কিন্তু বারবার মাথায় আঘাত ও কনকাসনের কারণে তাঁর সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ার থেমে যায়। শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালে ২৭ বছর বয়সে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসর নেন এই অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটার।
এবার দীর্ঘদিনের সেই শারীরিক সমস্যার প্রেক্ষাপটে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) ও ক্রিকেট ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে পুকোভস্কির একটি গোপন আর্থিক সমঝোতা হয়েছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তবে ক্ষতিপূরণ হিসেবে তিনি কত অর্থ পাচ্ছেন, তা প্রকাশ করা হয়নি।
পুকোভস্কির ক্যারিয়ারে অন্তত ১৩টি কনকাসন নথিভুক্ত হয়েছে। ২০২৪ সালের মার্চে তাসমানিয়ার বিপক্ষে শেফিল্ড শিল্ডের ম্যাচে রাইলি মেরেডিথের বাউন্সারে মাথায় আঘাত পাওয়ার পর তাঁকে মাঠ ছাড়তে হয়। সেটিই হয়ে ওঠে তাঁর শেষ প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ। পরবর্তী সময়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি প্যানেল তাঁকে ক্রিকেট থেকে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেয়।
অবসরের পরও পুকোভস্কি জানিয়েছিলেন, মাথায় আঘাতের প্রভাব পুরোপুরি কাটেনি। মাথাব্যথা, ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাবসহ বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। শরীরের বাঁ পাশের বিষয়গুলো সামলাতেও তাঁর সমস্যা হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।
তবে তাঁর মাথায় আঘাতের ইতিহাস ক্রিকেট দিয়ে শুরু হয়নি। ২০১৪ সালে ১৬ বছর বয়সে ব্রাইটন গ্রামার স্কুলে অস্ট্রেলিয়ান রুলস ফুটবলের অনুশীলনের সময় সতীর্থের হাঁটুতে মাথায় আঘাত লেগে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে ওই ঘটনার যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্কুলটির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপও নেন তিনি। ২০২৬ সালের আগস্টে পুকোভস্কি এ বিষয়ে আবারও আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, স্কুল কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
ক্রিকেটে পা রাখার পরও একের পর এক কনকাসন তাঁর পথ আটকে দেয়। ২০২১ সালে ভারতের বিপক্ষে সিডনিতে টেস্ট অভিষেকে ৬২ রান করে নিজের সম্ভাবনার জানান দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এরপর বারবার চোটের কারণে ধারাবাহিকভাবে খেলতে পারেননি।
২০২৪ সালের শেষ দিকেই চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁর ক্রিকেট ক্যারিয়ার নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের এপ্রিলে পুকোভস্কি নিজেই ঘোষণা দেন, আর ক্রিকেটে ফিরছেন না।
পুকোভস্কিকে ঘিরে এই সমঝোতা অস্ট্রেলিয়ার ক্রীড়াঙ্গনে কনকাসন ও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। বিশ্বের অন্যান্য খেলাতেও দীর্ঘমেয়াদি মাথার আঘাতের প্রভাব নিয়ে আইনি লড়াই হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের এনএফএলে সাবেক খেলোয়াড়দের কনকাসন ও মস্তিষ্কের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি নিয়ে বড় অঙ্কের সমঝোতার নজির রয়েছে।
পুকোভস্কির ঘটনাটি তাই শুধু একজন প্রতিভাবান ক্রিকেটারের অসমাপ্ত ক্যারিয়ারের গল্প নয়; খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নিয়েও এটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে।