জামালপুরের বকশীগঞ্জে আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ ১৭ বছরের শাসনামলে উপজেলা বিএনপিকে টিকিয়ে রাখতে যুবলীগের এক নেতা ভূমিকা রেখেছিলেন—এমন মন্তব্য করেছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মানিক সওদাগর। তাঁর এই বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
যে নেতাকে নিয়ে এই মন্তব্য, তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের বকশীগঞ্জ পৌর কমিটির সাবেক আহ্বায়ক ও পৌরসভার সাবেক মেয়র নজরুল ইসলাম সওদাগর। বিএনপি সভাপতি মানিক সওদাগরের দাবি, নজরুল ইসলামকে উদ্দেশ্য করে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে এবং তাঁকে তিনটি হত্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আয়োজনে দলীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই বক্তব্য দেন মানিক সওদাগর। তিনি নজরুল ইসলামের বড় ভাই।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে মানিক সওদাগরকে বলতে শোনা যায়, বকশীগঞ্জের সাতটি ইউনিয়নে বিএনপিকে কঠিন সময়ে ধরে রাখার ক্ষেত্রে নজরুল ইসলাম ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর দাবি, তৎকালীন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাতের পরামর্শে নজরুল আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছিলেন।
নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে মানিক সওদাগর আরও বলেন, কেউ যদি দাবি করতে পারেন যে নজরুলের কারণে তাঁর কোনো ক্ষতি হয়েছে, তাহলে তিনি সেই অভিযোগের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করবেন। তাঁর ভাষ্য, নজরুলকে ষড়যন্ত্র করে তিনটি হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে তাঁদের কাছে ভিডিও ফুটেজও রয়েছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নজরুল ইসলাম একসময় উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০১৫ সালে জামালপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদের মাধ্যমে তিনি যুবলীগে যোগ দেন। পরের বছর তাঁকে পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক করা হয়। ২০১৯ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বকশীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন তিনি।
মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকায় তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব আরও বাড়ে বলে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের দাবি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে বকশীগঞ্জ থানায় কয়েকটি মামলা হয়। এর মধ্যে পুলিশের করা একটি এবং বিএনপি নেতা-কর্মীদের করা তিনটি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতা-কর্মীকে আসামি করা হলেও নজরুল ইসলামকে আসামি করা হয়নি বলে জানা গেছে।
২০২৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি খয়ের উদ্দিন মাদ্রাসা মাঠে উপজেলা ও পৌর বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে কয়েকজন সহযোগীসহ নজরুল ইসলাম উপস্থিত হন। বিষয়টি জানার পর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন তাঁকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
এরপর ওই বছরের ১২ আগস্ট রাতে রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বিভিন্ন মামলায় প্রায় সাত মাস কারাগারে থাকার পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। বর্তমানে তিনি বকশীগঞ্জ এলাকায় অবস্থান করছেন।
নজরুল ইসলামের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে মানিক সওদাগর বলেন, নজরুল তাঁদের দলেরই লোক। তাঁর দাবি, মিল্লাতের পরামর্শে নজরুল আওয়ামী লীগে গিয়েছিলেন এবং ২০১৯ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার সময় যুবলীগ থেকে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। এরপর আওয়ামী লীগ বা সহযোগী সংগঠনের কোনো পদে তিনি ছিলেন না।
তবে নজরুল ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মানিক সওদাগর জানান, তিনি এখনো বিএনপিতে যোগ দেননি। তবে ভবিষ্যতে যোগ দিতে পারেন।