বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে রাজপথের আন্দোলন আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জনগণের দেওয়া প্রতিশ্রুতি সরকার পূরণ করতে পারেনি এবং দেশের মানুষ বর্তমান সরকারের কাছ থেকে মুক্তি চায়।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ছয় দফা দাবিতে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের এই লংমার্চ ঢাকার শাপলা চত্বর থেকে শুরু হয়ে চট্টগ্রামের দিকে এগিয়ে যায়।
বক্তব্যের শুরুতে শফিকুর রহমান কুমিল্লাকে দ্রুত বিভাগ করার দাবি জানান। তাঁর মতে, দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লাকে বিভাগ করার দাবি থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এ বিষয়ে আর বিলম্ব না করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি কুমিল্লা বিমানবন্দর চালুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কথাও বলেন।
কুমিল্লার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জামায়াত আমির। চাঁদাবাজি ও মাদকসহ বিভিন্ন সমস্যার প্রসঙ্গ তুলে তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করেন। তাঁর বক্তব্যে দ্রব্যমূল্য, বিদ্যুৎ-গ্যাস ও জনদুর্ভোগের বিষয়ও উঠে আসে।
লংমার্চের কর্মসূচি প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের আন্দোলন পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে নেওয়া হবে। এরপর ঢাকায় বড় সমাবেশের আয়োজন করা হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।
পথসভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামও সরকারের সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের মন্ত্রীদের পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের কেউ কেউ দুর্নীতি ও বিভিন্ন সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে বলে দাবি করেন তিনি।
এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদও সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখল ও মাদকের অভিযোগ তুলে সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন এলাকায় মানুষ বর্তমান সরকারকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। সরকারের ভবিষ্যৎ নিয়েও রাজনৈতিক মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, জনগণের দাবি পূরণে সরকার ব্যর্থ হলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হবে। তিনি দাবি করেন, জনগণের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে থাকলে আন্দোলন দেশব্যাপী বড় ধরনের গণজোয়ারে রূপ নিতে পারে।
পথসভায় জামায়াত, এনসিপি, এলডিপি, এবি পার্টি ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।
লংমার্চকে কেন্দ্র করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দেখা যায়। কুমিল্লার পদুয়া বাজার এলাকায় পথসভাকে ঘিরে মহাসড়কে যানবাহনের ধীরগতিও তৈরি হয়। লংমার্চের গাড়িবহর চট্টগ্রামের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় মহাসড়কের কয়েকটি স্থানে যান চলাচলে সাময়িক প্রভাব পড়ে।
১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে দলীয়করণ বন্ধ করা। এসব দাবি সামনে রেখেই ঢাকা থেকে চট্টগ্রামমুখী লংমার্চের আয়োজন করা হয়েছে।