শনিবার, সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬
২১ ভাদ্র ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে মরদেহ, মেয়ের বিয়ের টাকা নিয়ে আর ফেরা হলো না ইসমাইলের

>> সংসদ কার্যকর থাকলে লংমার্চ গণআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী: জহির উদ্দিন স্বপন

>> চুরির অভিযোগে দুই তরুণের মাথার চুল কেটে সড়কে ঘোরানোর অভিযোগ

>> পুকোভস্কিকে ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া

>> আইনের ফাঁকফোকরে ছিনতাইকারীদের আটকে রাখা যাচ্ছে না: আইজিপি

>> চট্টগ্রামের ইতিহাস-ঐতিহ্য উদযাপনে ‘সিলন আমার শহর’ আয়োজন

>> অভিজ্ঞতা ছাড়াই ব্যাংকিং খাতে চাকরি, নিয়োগ ১০০ জনের বেশি

>> নারায়ণগঞ্জে ইউএনও কার্যালয়ে আগুন, পুড়েছে কম্পিউটার-ল্যাপটপসহ সরঞ্জাম

>> হিজড়া সম্প্রদায়ের ‘গুরুমা’ মৌসুমীর লাশ উদ্ধার, হত্যার সন্দেহ

>> গভীর রাতে নৌ পুলিশের এএসআইয়ের মাতলামির ভিডিও ভাইরাল

আপনি পড়ছেন : গোপালগঞ্জ

বিষ খাইয়ে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ, স্বামী-শ্বশুরের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন


Rabeya ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকাল ৪:৫২



বিষ খাইয়ে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ, স্বামী-শ্বশুরের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন


গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় মুসলিমা খানম নামে এক গৃহবধূকে মারধরের পর জোর করে বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী ও শ্বশুরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মুসলিমার স্বামী কুরবান মোল্লা ও শ্বশুর নুরুজ্জামান মোল্লাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গত ২৭ আগস্ট জালালাবাদ ইউনিয়নের বড়ফা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ওই রাতেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মুসলিমার মৃত্যু হয়। পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে তাঁর মরদেহ দাফন করা হয়।

মুসলিমার মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চন্দ্রদিঘলিয়া-মধুমতি সড়কের বড়ফা নতুন বাজার এলাকায় মানববন্ধন করেন স্থানীয়রা। এতে শতাধিক মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে মুসলিমার মা মর্জিনা বেগম, ভাই জুয়েল মোল্লা, প্রতিবেশী কামরুল ইসলাম মোল্লা ও ইকরাম সরদারসহ স্থানীয় কয়েকজন বক্তব্য দেন।

মুসলিমা বড়ফা গ্রামের তোবারক মোল্লার মেয়ে। ২০১৪ সালে একই গ্রামের নুরুজ্জামান মোল্লার ছেলে কুরবান মোল্লার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।

মুসলিমার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে কুরবান তাঁকে বিভিন্ন সময় শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন। এ কারণে কুরবানকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি পরিবারের। ২০২২ সালে মুসলিমার মা মর্জিনা বেগম যৌতুক নিরোধ আইনে তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। পরে স্থানীয়ভাবে সালিসের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করে মুসলিমাকে স্বামীর বাড়িতে পাঠানো হয়। তবে এরপরও তাঁর ওপর নির্যাতন চলতে থাকে বলে পরিবারের অভিযোগ।

পরিবারের দাবি, ২৭ আগস্ট মুসলিমাকে তাঁর স্বামী ও শ্বশুরসহ পরিবারের সদস্যরা মারধর করেন। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে কুরবান ও নুরুজ্জামান জোর করে তাঁর মুখে বিষ ঢেলে দেন বলে অভিযোগ করা হয়।

পরে অচেতন অবস্থায় মুসলিমাকে একটি ভ্যানে করে বাবার বাড়ির সামনে নিয়ে যান কুরবান ও নুরুজ্জামান। পরিবারের অভিযোগ, সেখানে তাঁকে উঠানে রেখে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন তাঁরা। স্থানীয় কয়েকজন তাঁদের গতিরোধ করলে বিষ খাওয়ানোর বিষয়টি তাঁরা স্বীকার করেন বলে দাবি মুসলিমার স্বজনদের।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কুরবান ও নুরুজ্জামানকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। অন্যদিকে অচেতন মুসলিমাকে প্রথমে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই ওই রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় মুসলিমার মা মর্জিনা বেগম বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানায় চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলার পর কুরবান মোল্লা ও তাঁর বাবা নুরুজ্জামান মোল্লাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।