মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬
২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> সরকারি অফিসে যাতায়াত কমলেই দুর্নীতি কমবে: অর্থমন্ত্রী

>> ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, চিকিৎসককে হত্যার হুমকি

>> জার্মান সরকারের সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশের শাকিল সৈয়দ

>> ২০২৭ সালে কিছুটা স্বস্তি, ২০২৮-এ আরও স্বস্তি, ২০৩০-এ জ্বালানিসংকটমুক্তির লক্ষ্য

>> কারখানার শ্রমিক থেকে অ্যাপল-টেসলার সরবরাহকারী, ঝোউ ছুনফেইয়ের অবিশ্বাস্য উত্থান

>> দেড় ডিগ্রি উষ্ণতা বাড়লেই বড় বিপদের মুখে পৃথিবী

>> চলন্ত বাসের নিচে মোটরসাইকেল, প্রাণ গেল দুই আরোহীর

>> হামে ভয়াবহ পরিস্থিতি, মৃত্যু ছাড়াল ৯৯০

>> বিআরটিএ কর্মকর্তা জমির হোসেনের পদোন্নতি নিয়ে প্রশ্ন, যশোর-সাতক্ষীরায় অনিয়মের অভিযোগ

>> হারবাল বিজ্ঞাপন থেকে সুইমিংপুলের ছবি—গুজবে বিব্রত শিল্পীরা

আপনি পড়ছেন : রাজনীতি

২০২৭ সালে কিছুটা স্বস্তি, ২০২৮-এ আরও স্বস্তি, ২০৩০-এ জ্বালানিসংকটমুক্তির লক্ষ্য


Rabeya ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ২:২৫



২০২৭ সালে কিছুটা স্বস্তি, ২০২৮-এ আরও স্বস্তি, ২০৩০-এ জ্বালানিসংকটমুক্তির লক্ষ্য


দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকট নিয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, সংকট কাটাতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। লক্ষ্য হলো ২০২৭ সালে পরিস্থিতিতে কিছুটা উন্নতি আনা, ২০২৮ সালে আরও স্বস্তি তৈরি করা এবং ২০৩০ সালের মধ্যে জ্বালানিসংকট অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা।

সরকারের পক্ষ থেকে বর্তমান সংকটের জন্য অতীতের ভুল নীতি, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করা হয়েছে। অন্যদিকে বিরোধী দলও অতীতের বিভিন্ন সিদ্ধান্তকে সংকটের কারণ হিসেবে উল্লেখ করলেও বর্তমান সরকারের সিদ্ধান্তহীনতা, জবাবদিহির ঘাটতি ও ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

সোমবার জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকট নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় এসব কথা উঠে আসে। বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান এ বিষয়ে আলোচনার জন্য নোটিশ দিয়েছিলেন।

আলোচনায় সরকারি দলের পক্ষ থেকে বলা হয়, আগের সরকারের সময়ে পর্যাপ্ত গ্যাসের নিশ্চয়তা ছাড়াই বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। ফলে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ নিয়ে চাপ তৈরি হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, বিদ্যমান বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামো ব্যবহার করে দ্রুত সংকট মোকাবিলার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে নতুন গ্যাস অনুসন্ধান, এলএনজি আমদানি এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম সংসদে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, আগামী বছর থেকে পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি আনার লক্ষ্য রয়েছে। ২০২৮ সালে আরও উন্নতি এবং ২০৩০ সালের মধ্যে বড় ধরনের জ্বালানিসংকট না থাকার মতো পরিস্থিতি তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে।

তিনি জানান, গভীর সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য বিডিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাশাপাশি দেশজুড়ে নতুন গ্যাসকূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কয়েকটি কূপে এরই মধ্যে কাজ চলছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ভবিষ্যতে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।

গ্যাসের ঘাটতি মোকাবিলায় নতুন এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আরও একটি এফএসআরইউ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাতারবাড়ীতেও এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে বলে সংসদে জানানো হয়।

বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং বন্ধ থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সরকারের পক্ষ থেকে আগের সময়ের বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ এবং বিদেশ থেকে বিদ্যুৎ আমদানির বিভিন্ন চুক্তির বিষয়ও তুলে ধরা হয়। এসব চুক্তি হঠাৎ বাতিল করলে আন্তর্জাতিক আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

অন্যদিকে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, সরকার এরই মধ্যে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে, তবে সব সিদ্ধান্তকে তাঁরা দেশের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে করছেন না। সংকট সমাধানে সরকারের সঙ্গে কারিগরি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কাজ করার প্রস্তাবও দেন তিনি।

তিনি সরকারি দল ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে দীর্ঘমেয়াদি একটি বিশেষ ‘সেল’ বা টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান জানান। তাঁর মতে, রাজনৈতিক মতপার্থক্যের বাইরে গিয়ে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় একটি সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন।

বিরোধী দলের সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান বলেন, দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট শুধু উৎপাদন সক্ষমতার সমস্যা নয়। এর পেছনে দুর্নীতি, দুর্বল ব্যবস্থাপনা, পরিকল্পনার ঘাটতি, সিদ্ধান্তহীনতা ও জবাবদিহির অভাবও রয়েছে।

সংকট মোকাবিলায় দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানো, বিদ্যমান বিদ্যুৎকেন্দ্র সচল রাখা এবং পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রাখার প্রস্তাব দেন তিনি। পাশাপাশি পেট্রোবাংলা, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, পাওয়ার গ্রিড, পল্লী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার পরামর্শ দেন।

এ ছাড়া জরুরি ভিত্তিতে এলএনজি সংগ্রহ, পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রের সংস্কার, নতুন গ্যাসক্ষেত্রকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা এবং বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়।

বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ, জ্বালানি ক্রয়ে অনিয়ম এবং বিভিন্ন চুক্তির স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের বক্তব্যে মতপার্থক্য থাকলেও একটি বিষয়ে উভয় পক্ষই একমত—দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকট দ্রুত মোকাবিলা করা জরুরি। এখন সরকারের ঘোষিত পরিকল্পনা বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, সেটিই দেখার বিষয়।