মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬
২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> সরকারি অফিসে যাতায়াত কমলেই দুর্নীতি কমবে: অর্থমন্ত্রী

>> ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, চিকিৎসককে হত্যার হুমকি

>> জার্মান সরকারের সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশের শাকিল সৈয়দ

>> ২০২৭ সালে কিছুটা স্বস্তি, ২০২৮-এ আরও স্বস্তি, ২০৩০-এ জ্বালানিসংকটমুক্তির লক্ষ্য

>> কারখানার শ্রমিক থেকে অ্যাপল-টেসলার সরবরাহকারী, ঝোউ ছুনফেইয়ের অবিশ্বাস্য উত্থান

>> দেড় ডিগ্রি উষ্ণতা বাড়লেই বড় বিপদের মুখে পৃথিবী

>> চলন্ত বাসের নিচে মোটরসাইকেল, প্রাণ গেল দুই আরোহীর

>> হামে ভয়াবহ পরিস্থিতি, মৃত্যু ছাড়াল ৯৯০

>> বিআরটিএ কর্মকর্তা জমির হোসেনের পদোন্নতি নিয়ে প্রশ্ন, যশোর-সাতক্ষীরায় অনিয়মের অভিযোগ

>> হারবাল বিজ্ঞাপন থেকে সুইমিংপুলের ছবি—গুজবে বিব্রত শিল্পীরা

আপনি পড়ছেন : চট্টগ্রাম

১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, চিকিৎসককে হত্যার হুমকি


Rabeya ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ২:৪৭



১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, চিকিৎসককে হত্যার হুমকি


চট্টগ্রামে ১০ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় এক চিকিৎসককে গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদ এবং তাঁর সহযোগী রায়হানের পরিচয়ে ফোন ও বার্তার মাধ্যমে ওই চিকিৎসককে ভয়ভীতি দেখানো হয়।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, আটক ব্যক্তিরা কারাগারে থাকা মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনের সহযোগী। ডেভিড ইমন বড় সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত।

হুমকির শিকার চিকিৎসক এম ওয়াই এফ পারভেজ হাটহাজারীর চিকনদণ্ডী এলাকার বাসিন্দা। তিনি নগরের দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের আমান বাজারের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখেন।

চিকিৎসক পারভেজের করা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) অনুযায়ী, গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে রোগীদের সিরিয়ালের জন্য ব্যবহৃত তাঁর মুঠোফোন নম্বরে বিদেশি একটি নম্বর থেকে কল আসে। প্রথমে তাঁর সহকারী ফোনটি ধরলেও পরে চিকিৎসক নিজেই ওই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেন।

ফোনের অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে বড় সাজ্জাদ হিসেবে পরিচয় দিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১০ লাখ টাকা প্রস্তুত রাখতে বলেন। টাকা না দিলে চেম্বারে এসে তাঁকে হত্যা করার হুমকি দেওয়া হয় বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে রায়হান পরিচয় ব্যবহার করেও চিকিৎসককে একাধিকবার হুমকি দেওয়া হয়। হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো লিখিত ও অডিও বার্তায় টাকা না দিলে তাঁকে অনুসরণ করা হচ্ছে এবং যেকোনো জায়গায় গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা না দেওয়ায় চাঁদার পরিমাণ বাড়িয়ে ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার তদন্তে নেমে নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে কামরুল হাসান ওরফে সাগর, মো. রিকু, মো. তরিকুল ইসলাম ওরফে রোহিত, আহমদুল্লাহ ওরফে মাসুম মেম্বর, আহমদ রেজা শাকিল, মো. মানিক ও নুরুল আলমকে আটক করা হয়।

জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, আটক ব্যক্তিরা বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর কাছে সন্ত্রাসীদের পরিচয় দিয়ে চাঁদা দাবি করতেন বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের কাছ থেকে কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ আরও জানায়, কারাগারে থাকা ডেভিড ইমনের কিছু সহযোগী বাইরে থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করছিলেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিদের কেউ কেউ বড় সাজ্জাদ বা রায়হানের নির্দেশে কাজ করার কথা জানিয়েছেন। আবার তাঁদের পরিচয় ব্যবহার করে নিজেদের মতো করেও চাঁদা দাবি করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

চিকিৎসক পারভেজ বলেন, প্রতিদিন অনেক রোগীকে চিকিৎসা দিতে হয় এবং বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয়। ফলে হুমকি পাওয়ার পর তিনি আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন। কয়েকজনকে পুলিশ আটক করায় কিছুটা স্বস্তি পেলেও মূল হোতাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং পুরো চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।