রবিবার, আগস্ট ৩০, ২০২৬
১৫ ভাদ্র ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> গাজীপুরে থানার সামনে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, আওয়ামী লীগ নেতার পাঁচ স্বজন গ্রেপ্তার

>> চট্টগ্রামের লালদিয়ায় বিদেশি বিনিয়োগে দেশের প্রথম নতুন কনটেইনার টার্মিনালের নির্মাণ শুরু

>> আতলেতিকোর গ্যালারিতে আলভারেজকে দুয়ো, সম্পর্কের শেষ কোথায়?

>> সাগর–রুনি হত্যা: সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের সংশ্লিষ্টতার দাবি, নাম প্রকাশ হয়নি

>> আত্মহত্যা না হত্যা? মিকার মৃত্যুর আগের ঘটনা তুলে ধরল সিরিজ

>> অব্যাহতি পাওয়া শিক্ষকের স্থায়ী বরখাস্তের দাবিতে এক বিভাগে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন

>> যে ৯ ম্যাচে মেসি করেছেন ৩৮ গোল

>> নিয়মিত তাহাজ্জুদের সময় জেগে ওঠার ৬ কৌশল

>> গোপালগঞ্জ বিআরটিএ কার্যালয়ে অনিয়মের অভিযোগ, অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের দাবি সেবাগ্রহীতাদের

>> প্রচলিত অস্ত্রের মজুতে ঘাটতি, ইরানে পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা: ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা

আপনি পড়ছেন : চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের লালদিয়ায় বিদেশি বিনিয়োগে দেশের প্রথম নতুন কনটেইনার টার্মিনালের নির্মাণ শুরু


Rabeya ৩০ আগস্ট ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৪৪



চট্টগ্রামের লালদিয়ায় বিদেশি বিনিয়োগে দেশের প্রথম নতুন কনটেইনার টার্মিনালের নির্মাণ শুরু


চট্টগ্রামের পতেঙ্গার লালদিয়া চরে বিদেশি বিনিয়োগে নতুন কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। রোববার সকালে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ডেনমার্কভিত্তিক মায়ের্সক গ্রুপের প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস। টার্মিনাল নির্মাণে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৭৬ কোটি মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯ হাজার ৩৪৮ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে।

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৯ সালের শেষ দিকে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা। এরপর ২০৩০ সালে টার্মিনালটি বাণিজ্যিকভাবে চালু হতে পারে। চুক্তি অনুযায়ী ৩০ বছর টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব থাকবে এপিএম টার্মিনালসের হাতে। শর্ত পূরণ হলে এই মেয়াদ আরও ১৫ বছর বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

প্রকল্পের জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রায় ৪৯ দশমিক ১৫ একর জমি এপিএম টার্মিনালসকে দিয়েছে। এ প্রকল্পে স্থানীয় অংশীদার হিসেবে রয়েছে কিউএনএস কনটেইনার সার্ভিসেস লিমিটেড।

বাড়বে কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা

লালদিয়া টার্মিনাল চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার ওঠানো-নামানোর সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, নতুন টার্মিনাল বছরে প্রায় ৯ থেকে ১০ লাখ টিইইউ কনটেইনার পরিচালনা করতে পারবে।

বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের চারটি কনটেইনার টার্মিনালের সম্মিলিত বার্ষিক সক্ষমতা প্রায় ৩৫ লাখ টিইইউ। লালদিয়া যুক্ত হলে মোট সক্ষমতা প্রায় ৪৪ লাখ টিইইউতে পৌঁছাতে পারে।

প্রায় ৬১৩ মিটার দীর্ঘ এই টার্মিনালে সাতটি আধুনিক গ্যান্ট্রি ক্রেনসহ প্রায় ৮০ ধরনের যন্ত্রপাতি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। যন্ত্রপাতির বড় একটি অংশ বিদ্যুৎচালিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

বড় জাহাজ ভেড়ানোর সুবিধা

লালদিয়া টার্মিনালের অন্যতম বড় সুবিধা হলো এর অবস্থান। সাগরের কাছাকাছি হওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরের অভ্যন্তরের তুলনায় বড় জাহাজ পরিচালনার সুযোগ বেশি থাকবে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, লালদিয়ায় প্রায় সাড়ে ১০ মিটার ড্রাফটের এবং প্রায় ৬ হাজার টিইইউ ধারণক্ষমতার জাহাজ ভেড়ানো সম্ভব হবে। একই জেটিতে একসঙ্গে দুটি বড় জাহাজ অথবা তিনটি তুলনামূলক ছোট জাহাজ অবস্থান করতে পারবে।

এর ফলে বড় জাহাজের মাধ্যমে পণ্য পরিবহন বাড়ানো এবং বন্দর ব্যবস্থাপনায় সময় ও ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বন্দর কর্তৃপক্ষও পাবে রাজস্ব

লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে সরাসরি অর্থ বিনিয়োগ করতে হচ্ছে না। বরং টার্মিনাল পরিচালনার মাধ্যমে নির্ধারিত হারে রাজস্ব পাবে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

চুক্তি অনুযায়ী, বছরে প্রথম ৮ লাখ টিইইউ কনটেইনারের প্রতিটির জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ ২১ ডলার করে পাবে। ৮ লাখের বেশি থেকে ৯ লাখ টিইইউ পর্যন্ত প্রতিটির জন্য এই হার হবে ২৩ ডলার। এ ছাড়া টার্মিনাল চালুর আগে এককালীন ২৫০ কোটি টাকা পাওয়ার কথা রয়েছে।

বিদেশি বিনিয়োগের দিক থেকে ব্যতিক্রমী প্রকল্প

বাংলাদেশে বিদেশি প্রতিষ্ঠান এর আগে কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব পেলেও লালদিয়া প্রকল্পের ধরন আলাদা। আগে নির্মিত টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে পরিচালনার জন্য দেওয়া হয়েছে। কিন্তু লালদিয়ায় জমি পাওয়ার পর বিনিয়োগ, অবকাঠামো নির্মাণ, যন্ত্রপাতি স্থাপন এবং পরবর্তী পরিচালনা—পুরো প্রক্রিয়ায় এপিএম টার্মিনালস সরাসরি যুক্ত থাকছে।

এ কারণে বিদেশি বিনিয়োগে নতুন কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের ক্ষেত্রে লালদিয়া প্রকল্পকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারকারীদের মতে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের একটি প্রতিষ্ঠান নতুন টার্মিনাল পরিচালনায় এলে বন্দরসেবায় প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে। এর ফলে সেবার মান উন্নত হওয়ার পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রকল্পটি শেষ হলে চট্টগ্রামকে শুধু বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক লজিস্টিকস হাব হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এটি বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।