রবিবার, আগস্ট ৩০, ২০২৬
১৫ ভাদ্র ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> আতলেতিকোর গ্যালারিতে আলভারেজকে দুয়ো, সম্পর্কের শেষ কোথায়?

>> সাগর–রুনি হত্যা: সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের সংশ্লিষ্টতার দাবি, নাম প্রকাশ হয়নি

>> আত্মহত্যা না হত্যা? মিকার মৃত্যুর আগের ঘটনা তুলে ধরল সিরিজ

>> অব্যাহতি পাওয়া শিক্ষকের স্থায়ী বরখাস্তের দাবিতে এক বিভাগে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন

>> যে ৯ ম্যাচে মেসি করেছেন ৩৮ গোল

>> নিয়মিত তাহাজ্জুদের সময় জেগে ওঠার ৬ কৌশল

>> গোপালগঞ্জ বিআরটিএ কার্যালয়ে অনিয়মের অভিযোগ, অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের দাবি সেবাগ্রহীতাদের

>> প্রচলিত অস্ত্রের মজুতে ঘাটতি, ইরানে পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা: ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা

>> ‘ব্যাড টিচার’ সিনেমা দিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন যে নায়িকা

>> অটোরিকশায় পলিথিনে মোড়ানো ৮ আগ্নেয়াস্ত্র, দুজন গ্রেপ্তার

আপনি পড়ছেন : বিনোদন

আত্মহত্যা না হত্যা? মিকার মৃত্যুর আগের ঘটনা তুলে ধরল সিরিজ


Rabeya ৩০ আগস্ট ২০২৬, বিকাল ৫:৫০



আত্মহত্যা না হত্যা? মিকার মৃত্যুর আগের ঘটনা তুলে ধরল সিরিজ


যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনার মির্টল বিচের মিকা মিলারের মৃত্যু নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক রয়েছে। ২০২৪ সালের এপ্রিলে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্তে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে বিবেচনা করা হলেও মৃত্যুর আগে তাঁর দাম্পত্য জীবন, নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা এবং স্বামীর বিরুদ্ধে করা অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

নেটফ্লিক্সের তিন পর্বের ডকুসিরিজ ‘ডেথ অব দ্য পাস্টরস ওয়াইফ’ মিকার জীবনের শেষ সময়ের ঘটনাগুলো তুলে ধরেছে। এতে পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের পাশাপাশি আগে প্রকাশ্যে না আসা কিছু ভিডিওও রয়েছে।

মিকা কিশোরী বয়সে সলিড রক চার্চে যেতেন। সেখানেই তাঁর পরিচয় হয় জন-পল মিলারের সঙ্গে। ২০১৫ সালে তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয় বলে মিকার পরিবারের দাবি। ২০১৭ সালের নভেম্বরে তাঁরা বিয়ে করেন। তবে মিকার পরিবার এই সম্পর্ক মেনে নেয়নি।

বিয়ের কয়েক বছর পর তাঁদের সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়। ২০২৩ সালের অক্টোবরে মিকা বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন। পরে দুই পক্ষের বিচ্ছেদের আবেদনই খারিজ হয়ে যায়।

এরই মধ্যে মিকা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছিলেন, তাঁর গাড়ির চাকা কেটে দেওয়া হয়েছে এবং কেউ তাঁকে অনুসরণ করছে। পুলিশকে তিনি জানিয়েছিলেন, নিজের জীবন নিয়ে তিনি ভয় পাচ্ছেন। পরিবারের দাবি, মৃত্যুর আগে স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগও করেছিলেন তিনি এবং নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ চেয়েছিলেন।

যেদিন মারা যান মিকা

২০২৪ সালের ১৫ এপ্রিল মিকা আবারও বিচ্ছেদের আবেদন করেন। পরে তিনি স্বামীর সঙ্গে থাকা বাড়ি ছেড়ে আলাদা অ্যাপার্টমেন্টে চলে যান। ২৫ এপ্রিল জন-পলকে বিচ্ছেদের কাগজ দেওয়া হয়।

দুই দিন পর, ২৭ এপ্রিল মিকা বাসা থেকে বের হন। দুপুরে একটি দোকান থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি কেনার পর তিনি উত্তর ক্যারোলাইনার একটি স্টেট পার্কে যান। পরে ৯১১-এ ফোন করে জানান, তিনি আত্মহত্যা করতে যাচ্ছেন এবং তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে পরিবারের সদস্যদের যেন মরদেহ খুঁজে পেতে সহায়তা করা হয়।

পরে একটি নদী থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মাথায় গুলির আঘাতে তাঁর মৃত্যু হয়েছিল।

জন-পল পরদিন গির্জায় মিকার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে জানান। তিনি দাবি করেন, মিকা মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছিলেন।

তবে মিকার পরিবার এ ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তাঁর বোনের দাবি, মিকা আগে বলেছিলেন—তাঁর মাথায় গুলি লাগলে ঘটনাটিকে যেন আত্মহত্যা হিসেবে ধরে নেওয়া না হয়। পরিবার আরও দাবি করে, দাম্পত্য সম্পর্কে নির্যাতনের কারণে মিকা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া

মিকার মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনায় আসে। #JusticeForMica হ্যাশট্যাগে অনেকে তাঁর পরিবারের দাবির প্রতি সমর্থন জানান। জন-পলের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগও ওঠে।

তবে তদন্তে তাঁকে মিকার হত্যার সঙ্গে যুক্ত করার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছিল, মিকা যেদিন মারা যান, জন-পল তখন সাউথ ক্যারোলাইনার চার্লস্টনে সন্তানদের একটি ফুটবল টুর্নামেন্টে ছিলেন।

নতুন মামলায় জন-পল

মিকার মৃত্যুর আগে তাঁকে অনুসরণ করা এবং নজরদারির অভিযোগও পরে তদন্তে আসে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে এফবিআই জন-পলের বিরুদ্ধে সাইবারস্টকিং এবং তদন্তকারীদের মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ আনে।

ফেডারেল অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মিকার গতিবিধি অনুসরণ করার জন্য লোক নিয়োগ, এক দিনে বহুবার ফোন করা এবং অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত ছবি অনলাইনে প্রকাশের মতো অভিযোগ রয়েছে।

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে আদালতে হাজির হয়ে জন-পল অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। মামলার পরবর্তী শুনানি ২০২৬ সালের অক্টোবরে হওয়ার কথা।

মিকার পরিবার এখন শুধু তাঁর মৃত্যুর বিষয়ে ন্যায়বিচার নয়, পারিবারিক নির্যাতনের শিকার অন্যদের সুরক্ষার জন্যও কাজ করতে চায়। তাঁদের পক্ষ থেকে ‘মিকার আইন’ নামে একটি উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে, যেখানে পারিবারিক সহিংসতার আওতায় ‘কোয়ারসিভ কন্ট্রোল’ বা জবরদস্তিমূলক নিয়ন্ত্রণের মতো আচরণ অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে।

ডকুসিরিজটির নির্মাতাদের মতে, পারিবারিক নির্যাতন সব সময় শারীরিক আঘাত দিয়ে শুরু হয় না। নজরদারি, বিচ্ছিন্ন করে রাখা, নিয়ন্ত্রণ করা কিংবা প্রযুক্তির অপব্যবহারের মতো আচরণও নির্যাতনের ধারাবাহিক অংশ হতে পারে। মিকার ঘটনা সেই বিষয়গুলো নিয়েই নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।