চাঁদপুরে গ্রাহকদের বন্ধকি স্বর্ণালংকার ও টাকা আত্মসাতের অভিযোগে কারাগারে থাকা স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাসের স্ত্রী ও দুই সন্তানকে স্বজনদের জিম্মায় দিয়েছে পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার কোনো অভিযোগ বা প্রমাণ না পাওয়ায় পিন্টু দাসের বাবা সুনীল দাসের জিম্মায় তাঁদের হস্তান্তর করা হয়েছে।
চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফয়েজ আহমেদ জানান, পিন্টু দাসের বিরুদ্ধে সাতজন গ্রাহকের স্বর্ণালংকার ও টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আত্মসাৎ করা স্বর্ণালংকার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, পিন্টু দাসের স্ত্রী ও দুই সন্তানের বিরুদ্ধে আত্মসাতের ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ততার কোনো অভিযোগ বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই তাঁদের স্বজনদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
চাঁদপুর শহরের আখন্দ মার্কেটের এস কে জুয়েলার্সের মালিক পিন্টু দাসের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের বন্ধকি স্বর্ণালংকার ও টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগী সাতজন জানান, বিভিন্ন সময়ে তাঁরা অর্থের প্রয়োজন মেটাতে সোনার চেইন, কানের দুল, লকেটসহ বিভিন্ন অলংকার তাঁর দোকানে বন্ধক রেখেছিলেন।
পরবর্তী সময়ে ধার করা টাকা পরিশোধ করে বন্ধক রাখা স্বর্ণালংকার ফেরত চাইলে পিন্টু দাস নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। একপর্যায়ে গত ১৯ আগস্ট রাতে তিনি বাসা ও দোকানে তালা দিয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চলে যান।
এরপর ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ এবং বাসার মালিকের করা সাধারণ ডায়েরির ভিত্তিতে পুলিশ অনুসন্ধান শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ২৮ আগস্ট ভোরে চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে পিন্টু দাস ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের উদ্ধার করে চাঁদপুর মডেল থানার পুলিশ।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে পিন্টু দাস গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে স্বর্ণালংকার ও ২৫ লাখ টাকার বেশি আত্মসাতের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানানো হয়।
পরে মো. রাসেল খান নামের এক ভুক্তভোগী চাঁদপুর সদর মডেল থানায় প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে মামলা করেন। ওই মামলায় পিন্টু দাসকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে গতকাল শনিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, আত্মসাৎ করা স্বর্ণালংকার ও অর্থ উদ্ধারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।