দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সম্মিলিতভাবে কাজ করা গেলে আগামী তিন মাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অন্তত ৮০ শতাংশ উন্নতি করা সম্ভব।
শনিবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি দেশের তরুণ জনগোষ্ঠী পরিবর্তনের উদ্যোগ নিলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি তরুণদের দেশ পুনর্গঠনে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, আগামী তিন মাসে ডেঙ্গু সমস্যা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাতে হবে। শতভাগ সফলতা অর্জন সম্ভব না হলেও অন্তত ৮০ শতাংশ সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ কর্মসূচি চলবে আগামী ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত। কর্মসূচির আওতায় এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, জনসচেতনতা বাড়ানো এবং বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোর উদ্যোগকে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাসাবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলের আশপাশে জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননের সুযোগ তৈরি করে। ভাঙারি, প্লাস্টিকের পাত্র, পরিত্যক্ত সামগ্রীসহ বিভিন্ন জায়গায় পানি জমে থাকলে সেখানে মশার বংশবিস্তার হতে পারে। তাই নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে এসব স্থান ঝুঁকিমুক্ত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রত্যেকে যদি নিজের বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা কর্মস্থল নিয়মিত পরিষ্কার রাখেন, তাহলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। সপ্তাহে অন্তত এক ঘণ্টা পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যয় করার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।
যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা না ফেলার পাশাপাশি অন্যদেরও সচেতন করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, পরিচ্ছন্নতা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়; সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবক এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সারা দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও একই সঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। অনলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারাও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য, তথ্য ও সম্প্রচারসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, সরকারি কর্মকর্তারা, সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।