কৃষকদের সুবিধা দিতে হিমাগারে আলু সংরক্ষণের সর্বোচ্চ ভাড়া কমিয়েছে সরকার। প্রতি কেজি আলু সংরক্ষণের ভাড়া ৬ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে কমিয়ে ৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই হার আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
গত ৩০ আগস্ট কৃষি মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে ভাড়া কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে ৩১ আগস্ট কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়। বৈঠকে সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি কোল্ড স্টোরেজ মালিক, আলুচাষি ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
কৃষিসচিব সেলিম খান জানান, যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণে দেশের ২৫ জেলার জেলা প্রশাসকদের নিয়ে একটি কমিটি করা হয়েছিল। ওই কমিটি প্রতি কেজিতে ৫ টাকা ৫০ পয়সা ভাড়া নির্ধারণের সুপারিশ করে। কৃষকদের স্বার্থ বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত ৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়েছে বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির দাবি, ভাড়া ৭৫ পয়সা কমানোর কারণে বর্তমানে হিমাগারগুলোতে সংরক্ষিত ২৩ লাখ টনের বেশি আলুর ক্ষেত্রে মালিকদের আয় প্রায় ১৭২ কোটি ৫০ লাখ টাকা কমে যাবে।
হিমাগার মালিকদের সংগঠন বলছে, কোল্ড স্টোরেজ ব্যবসায় বড় ধরনের ব্যাংকঋণ রয়েছে। ভাড়া কমে গেলে ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধে চাপ তৈরি হবে। এতে অনেক প্রতিষ্ঠান ঋণখেলাপি হওয়ার পাশাপাশি কিছু হিমাগার বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
সংগঠনটির আরও দাবি, বিদ্যুতের বাণিজ্যিক দাম ১৮ শতাংশ বাড়ার পর তারা সংরক্ষণ খরচ সমন্বয়ের জন্য ভাড়া বাড়ানোর আবেদন করেছিল। কিন্তু সেই আবেদন বিবেচনা না করে উল্টো সংরক্ষণ ভাড়া কমানো হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে তারা।
অন্যদিকে আলুচাষিদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নতুন নির্ধারিত ভাড়া কৃষকদের জন্য স্বস্তির। মুন্সিগঞ্জ জেলা আলু চাষি সমিতির দাবি, বাস্তবে অনেক হিমাগার আগে থেকেই নির্ধারিত ৬ টাকা ৭৫ পয়সার চেয়ে কম ভাড়ায় আলু সংরক্ষণ করত। তাদের মতে, প্রতি কেজি আলু সংরক্ষণের প্রকৃত খরচও নির্ধারিত ভাড়ার তুলনায় অনেক কম।
এদিকে দেশে এবার চাহিদার তুলনায় আলুর উৎপাদন বেশি হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ টন আলু উৎপাদনের বিপরীতে বার্ষিক চাহিদা ৮৫ থেকে ৯০ লাখ টন। অতিরিক্ত আলুর একটি অংশ বিদেশে রপ্তানি করা গেলে বাজারে সরবরাহের চাপ কমার পাশাপাশি কৃষকেরাও ভালো দাম পেতে পারেন।
এ পরিস্থিতিতে শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশ থেকে আলু ও পেঁয়াজ আমদানিতে আগ্রহ দেখিয়েছে। দুই দেশের বাণিজ্যিক আলোচনার পর বাংলাদেশ শিগগিরই শ্রীলঙ্কার বাজারে আলু রপ্তানির সম্ভাবনা যাচাই করতে একটি বাণিজ্য প্রতিনিধিদল পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে।