বুধবার, সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬
১৮ ভাদ্র ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> ১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে: সংসদে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

>> জনপ্রশাসন ও স্বাস্থ্যসহ কয়েকটি সচিব পদে রদবদল

>> আনন্দবাজারের সাংবাদিকদের জরুরি স্বস্তি দিলেন না কলকাতা হাইকোর্ট

>> তনু হত্যা মামলার দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ

>> ঢাবিতে ৪৮ টাকায় বই ও গাছ উপহার দিয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন

>> দক্ষিণ আফ্রিকায় ট্রিপল সেঞ্চুরি, ইতিহাস গড়লেন তাওহীদ হৃদয়

>> ‘মক্কা চুক্তিকে ইরানের বিরুদ্ধে মনে করি না, বাংলাদেশের সিদ্ধান্তে আমরা চিন্তিত নই’

>> ‘ওরা আমাকে মেরে ফেলবে’—ভাইরাল ভিডিওটি ভারতের, মা ও নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত

>> আউট হয়ে মাঠ ছাড়ার পর ফিরলেন চার্লস, শেষ পর্যন্ত জেতালেন দলকে

>> খুলে দেওয়া হলো ঢাকা–আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ের দুই সার্ভিস সেতু, সুবিধা পাবেন ৪ কোটির বেশি মানুষ

আপনি পড়ছেন : অর্থনীতি

১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে: সংসদে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী


Rabeya ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৪৬



১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে: সংসদে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী


দেশের চলমান বিদ্যুৎ সংকট আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি জানিয়েছেন, আগস্টে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিয়ে যে ভোগান্তি হয়েছে, সেপ্টেম্বরে যেন তা আর না হয়, সে জন্য সরকার সর্বোচ্চ পর্যায়ে কাজ করছে।

বুধবার জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুলের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয় বেলা সাড়ে তিনটায়।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহের সমস্যায় দেশের মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন এবং এ পরিস্থিতির জন্য সরকার দুঃখিত। তাঁর দাবি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের কিছু ভুল নীতির পাশাপাশি সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকটও বর্তমান পরিস্থিতিতে বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগাতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ গ্যাস প্রয়োজন। কিন্তু দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি করা এলএনজি মিলিয়ে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ সীমিত। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে গেলে শিল্প ও আবাসিক খাতে গ্যাস সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং আবাসিক খাতে গ্যাসের ব্যবহারের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেই পরিস্থিতি সামাল দিতে হচ্ছে।

বর্তমান সংকটের পেছনে কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ থাকার বিষয়টিও সংসদে তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬১৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি ইউনিট কারিগরি সমস্যার কারণে বন্ধ রয়েছে। একই ক্ষমতার মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিটও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া ভারতের আদানি গ্রুপের কাছ থেকে চুক্তি অনুযায়ী বিদ্যুৎ না পাওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চুক্তিতে ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে দিনে প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যার সময়ে প্রায় ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।

আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত দুটি ভাসমান টার্মিনাল বা এফএসআরইউতে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছিল বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। গত ২১ জুলাই একটি এফএসআরইউতে সমস্যা দেখা দেয় এবং সেটি মেরামতে প্রায় ২২ দিন সময় লাগে। এর প্রভাব বিদ্যুৎ উৎপাদনেও পড়ে। তবে সংকটের প্রায় ৮৮ শতাংশ সমাধান করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পায়রা ও মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের বন্ধ ইউনিটগুলো দ্রুত চালুর ওপর গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ বা রুফটপ সোলার ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তাঁর আশা, সরকারের নতুন রুফটপ সোলার নীতির বাস্তবায়ন হলে আগামী গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে মানুষের ভোগান্তি কমবে।

সংসদ সদস্যদের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে উদ্বেগকে স্বাভাবিক উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো সংসদ সদস্যদের প্রকৃত পরিস্থিতি জানানো এবং এ খাত নিয়ে থাকা ভুল-বোঝাবুঝি দূর করা।