সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির ভাই জাওয়াদুর রহিম ওয়াদুদ (টিপু) ও তাঁর সহযোগীদের দখলে থাকা চাঁদপুরের হাইমচরের আলোচিত ‘টিপুনগর’ এলাকার মাছের ঘের থেকে পুলিশের মাছ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জেলা পুলিশ এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
মঙ্গলবার বিকেলে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) খায়রুল কবিরকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে তাঁকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, মাছ বিক্রির ঘটনায় কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে।
হাইমচরের নীলকমল ইউনিয়নের বাহেরচরে মেঘনা নদীর পশ্চিমে জেগে ওঠা প্রায় ৪৮ দশমিক ৫২ একর জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। আদালতের নির্দেশে বর্তমানে ওই সম্পত্তির দেখভালের দায়িত্ব হাইমচর থানার ওসিকে রিসিভার হিসেবে দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৫ আগস্ট ওসির নির্দেশে থানার এসআই মো. জাকির হোসেন ঘেরে জাল ফেলে মাছ ধরেন। পরে মাছগুলো হায়দারগঞ্জে নিয়ে ৩৯ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ ক্ষেত্রে উন্মুক্ত নিলাম বা দরপত্রের কোনো প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি এবং বিক্রির অর্থও তাৎক্ষণিকভাবে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়নি।
এসআই জাকির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, ওসির নির্দেশেই মাছ ধরা ও বিক্রি করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, মাছ বিক্রির টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার দায়িত্ব ওসির।
সদ্য বদলি হওয়া ওসি মো. নাজমুল হাসানের বক্তব্য, স্থানীয় লোকজন দীর্ঘদিন ধরে টিপুনগরের ঘের থেকে মাছ ও বাগান থেকে ফলমূল নিয়ে যাচ্ছিলেন। ঘেরে কী পরিমাণ মাছ রয়েছে, তা দেখার জন্য জাল ফেলা হয়েছিল এবং পরে মাছগুলো বিক্রি করা হয়। অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার কথাও তিনি জানিয়েছেন।
তবে হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেছেন, সরকারি সম্পত্তি বিক্রি করতে হলে নিয়ম অনুযায়ী নিলামের মাধ্যমে তা করতে হয়। তাঁর দাবি, পুলিশ কোনো নিলাম আয়োজন করেনি এবং বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকেও জানানো হয়নি।
এখন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের মাধ্যমে মাছ বিক্রির ঘটনায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট হবে।