মহান আল্লাহ মানবজাতির হেদায়াত ও কল্যাণের জন্য সর্বশেষ নবী ও রাসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে পৃথিবীতে প্রেরণ করেন। তাঁর আগমন মানবজাতির ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করে।
হজরত মুহাম্মদ (সা.) ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন। জন্মের আগেই তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন। আরবের তৎকালীন প্রথা অনুযায়ী তিনি দুধমা হালিমা সাদিয়া (রা.)-এর কাছে লালিত-পালিত হন। প্রথমে দাদা আবদুল মুত্তালিব এবং পরে চাচা আবু তালিব তাঁর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
কৈশোর ও তরুণ বয়সে মহানবী (সা.) সততা, বিশ্বস্ততা ও মানবসেবার জন্য মানুষের কাছে বিশেষ মর্যাদা লাভ করেন। তিনি ‘হিলফুল ফুজুল’-এর মতো জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে অংশ নেন। ২৫ বছর বয়সে হজরত খাদিজা (রা.)-এর সঙ্গে তাঁর বিবাহ হয়।
৩৫ বছর বয়সে কাবা শরিফ পুনর্নির্মাণের সময় হাজরে আসওয়াদ স্থাপন নিয়ে কুরাইশদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে মহানবী (সা.) বিচক্ষণতার সঙ্গে সেই বিরোধের সমাধান করেন।
৬১০ খ্রিষ্টাব্দে ৪০ বছর বয়সে হেরা গুহায় তাঁর ওপর প্রথম ওহি নাজিল হয় এবং নবুয়তের সূচনা ঘটে। প্রথম দিকে গোপনে ইসলাম প্রচারের পর তিনি প্রকাশ্যে ইসলামের দাওয়াত দেন। নানা বাধা ও নির্যাতনের মধ্যেও তিনি মানুষকে এক আল্লাহর ইবাদত, ন্যায়বিচার, মানবতা ও শান্তির পথে আহ্বান করেন।
৬১৯ খ্রিষ্টাব্দে হজরত খাদিজা (রা.) ও আবু তালিবের ইন্তেকালে মহানবী (সা.) গভীরভাবে শোকাহত হন। এ বছরটি ‘আমুল হুজন’ বা দুঃখের বছর হিসেবে পরিচিত। এরপর তায়েফ সফর, মিরাজ এবং ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মদিনায় হিজরতের ঘটনা ঘটে।
মদিনায় গিয়ে মহানবী (সা.) একটি আদর্শ সমাজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণ ও গোত্রের মানুষের অধিকার ও দায়িত্ব নির্ধারণ করে ‘মদিনা সনদ’ প্রণয়ন করা হয়। এরপর বদর ও ওহুদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ইসলামের ইতিহাসে স্থান পায়।
৬২৮ খ্রিষ্টাব্দে হোদায়বিয়ার সন্ধি সম্পাদিত হয়। পরে চুক্তি ভঙ্গের পর ৬৩০ খ্রিষ্টাব্দে মহানবী (সা.) মক্কা বিজয় করেন। বিজয়ের পরও তিনি প্রতিশোধের পথ বেছে না নিয়ে সাধারণ ক্ষমার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে মহানবী (সা.) বিদায় হজ পালন করেন। এ সময় তিনি মানবমর্যাদা, ন্যায়বিচার, পারস্পরিক অধিকার ও ভ্রাতৃত্বের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন।
বিদায় হজের প্রায় ৯০ দিন পর, ৬৩ বছর বয়সে, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মদিনায় ওফাত লাভ করেন। তাঁকে হজরত আয়েশা (রা.)-এর হুজরায় দাফন করা হয়। বর্তমানে সেখানেই তাঁর রওজা মোবারক অবস্থিত।
মহানবী (সা.)-এর জীবন মানবতার জন্য শান্তি, ন্যায়, ক্ষমা, সহমর্মিতা ও উত্তম চরিত্রের এক অনন্য শিক্ষা।