ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সংবাদপত্র আনন্দবাজার পত্রিকার সম্পাদক ও প্রধান প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় তাৎক্ষণিক কোনো স্বস্তি দেয়নি কলকাতা হাইকোর্ট। একই সঙ্গে মামলাটি বাতিলের আবেদনও জরুরি ভিত্তিতে শুনতে রাজি হয়নি আদালত।
বুধবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে সাংবাদিকদের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এন মুখোপাধ্যায় বিষয়টি দ্রুত শুনানির জন্য আবেদন করেন। তিনি জানান, একটি প্রতিবেদনে ‘গেরুয়া গুন্ডামি’ শব্দ ব্যবহারের জেরে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা হয়েছে।
আইনজীবীর বক্তব্য, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি) ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্রসংগঠন ফেটসুর শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ওই শব্দ ব্যবহার করা হয়েছিল। এরপর সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক অনুভূতিতে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়।
আদালত জানায়, মামলাটি বিশেষভাবে জরুরি ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত করার পরিবর্তে নিয়মিত প্রক্রিয়ায় এগোনো উচিত। বিচারপতি বলেন, এফআইআর বাতিলের একাধিক আবেদন ইতোমধ্যে তাঁর বেঞ্চে বিচারাধীন রয়েছে। তাই নতুন করে কোনো মামলাকে আলাদাভাবে অগ্রাধিকার দিয়ে নির্ধারণ করা হচ্ছে না।
এরপর আইনজীবী এস এন মুখোপাধ্যায় জানান, সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে মূলত মামলাটি বাতিলের আবেদনই করা হচ্ছে। পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে পরে বিষয়টি আবার আদালতের নজরে আনার অনুমতি চান তিনি। আদালত জানায়, প্রথমে আবেদনটি যথাযথভাবে জমা দিতে হবে, এরপর নিয়ম অনুযায়ী শুনানির জন্য তা তালিকাভুক্ত করার চেষ্টা করা যেতে পারে।
গত ২১ আগস্ট আনন্দবাজার পত্রিকার প্রথম পাতায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংঘর্ষের প্রতিবেদন প্রকাশের সময় ‘গেরুয়া গুন্ডামি’ শব্দ দুটি ব্যবহার করা হয়। এর পর ওই শব্দ নিয়ে আপত্তি ওঠে এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
এরই মধ্যে মঙ্গলবার আনন্দবাজার পত্রিকার কলকাতা কার্যালয়ের সামনে একদল বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে পত্রিকাটির বিরুদ্ধে স্লোগান দেয় এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বিক্ষোভকারীরা ভবনের প্রবেশপথের কয়েকটি থাম গেরুয়া রঙেও রাঙিয়ে দেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে বুধবারের পত্রিকায় ঘটনাটিকে প্রথম পাতায় গুরুত্ব না দিয়ে ভেতরের পাতায় সাধারণ সংবাদ হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আনন্দবাজার পত্রিকার পক্ষ থেকে এখনো কোনো মামলা করা হয়নি বলে জানা গেছে।