বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়ার মধ্যেই নিজেদের কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করার প্রত্যয় জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং।
কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সম্মেলনের ফাঁকে সোমবার দুই নেতা বৈঠকে বসেন। মে মাসের পর এটিই ছিল তাঁদের প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ।
বৈঠকের শুরুতে সি চিন পিং বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে চীনের সম্পর্ক আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এই সহযোগিতার আরও বিস্তারের সুযোগ রয়েছে। তিনি দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের এই অগ্রগতি অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।
পুতিনও চীনা প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন। তিনি জানান, দুই দেশের বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।
এবার কিরগিজস্তানে দুই দিনব্যাপী এসসিও সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাভিত্তিক এই জোটের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান অংশ নিয়েছেন।
সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানসহ বেশ কয়েকজন নেতা উপস্থিত রয়েছেন।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, পুতিন ও সি চিন পিংয়ের আলোচনায় মূল গুরুত্ব পেয়েছে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক। ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয়টি আলোচনায় এলেও তা ছিল সীমিত পরিসরে।
সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও বৈঠক করেছেন পুতিন। ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে কাজ করার আগ্রহের কথা জানান মোদি। জবাবে পুতিন বলেন, সংকট সমাধানের সম্ভাব্য পথ খুঁজছে মস্কোও।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গেও পুতিনের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে ড্রোন সরবরাহের পর মস্কো ও তেহরানের সামরিক সহযোগিতা আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে।
এর মধ্যেই ইরানকে অস্ত্র দেওয়ার বিষয়ে রাশিয়া ও চীনকে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর এমন হুঁশিয়ারির সময়েই রাশিয়া ও চীন নিজেদের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বার্তা দিল।
এসসিওর পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে পুতিন, সি চিন পিং, মোদি, পেজেশকিয়ান ও শাহবাজ শরিফসহ শীর্ষ নেতারা অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করছেন কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভ।
বর্তমানে এসসিওর ১০টি সদস্যদেশ রয়েছে। এর বাইরে তুরস্ক, সৌদি আরব ও কাতারসহ ১৫টি দেশ জোটটির অংশীদার হিসেবে যুক্ত আছে। আফগানিস্তান ও মঙ্গোলিয়া রয়েছে পর্যবেক্ষক দেশের তালিকায়।