যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর রাজনৈতিক অনুদান রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। জুন পর্যন্ত ১৮ মাসে বিভিন্ন কোম্পানি রাজনৈতিক প্রচারে প্রায় ৬৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার দিয়েছে বলে এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
নির্বাচনী অর্থ নিয়ে কাজ করা সংগঠন পাবলিক সিটিজেন ফেডারেল ইলেকশন কমিশনের (এফইসি) তথ্য বিশ্লেষণ করে এই হিসাব প্রকাশ করেছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের পুরো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী সময়ে কোম্পানিগুলো যে পরিমাণ অর্থ দিয়েছিল, এবার মাত্র ১৮ মাসেই তার চেয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি অনুদান এসেছে।
করপোরেট অনুদানের তালিকায় উল্লেখযোগ্য অবস্থানে রয়েছে কোচ ইনকরপোরেটেড। এ ছাড়া ক্রিপ্টো, অনলাইন স্পোর্টস বেটিং, তামাক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোও বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করছে।
ক্রিপ্টো, বেটিং ও এআই খাত এগিয়ে
পাবলিক সিটিজেনের হিসাবে, ২০২৬ সালের নির্বাচনে করপোরেট অর্থের বড় অংশ এসেছে ক্রিপ্টো, অনলাইন বেটিং ও এআই খাত থেকে। এই তিন খাত মিলিয়ে কোম্পানিগুলোর অনুদান প্রায় ৩৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার।
ক্রিপ্টো উদ্যোক্তা ক্যামেরন ও টাইলার উইঙ্কলভসও নির্বাচনী প্রচারে বড় অঙ্কের অর্থ দিয়েছেন। তাঁদের প্রতিষ্ঠান জেমিনি ট্রাস্ট কোম্পানির মাধ্যমে ট্রাম্প-সমর্থক সুপার পিএসি এমএজিএ ইনকরপোরেটেডকে ১ কোটি ডলার দেওয়ার তথ্য রয়েছে।
অন্যদিকে ড্রাফটকিংস, ফ্যানডুয়েল, ফ্যানাটিকস ও বেট৩৬৫সহ অনলাইন স্পোর্টস বেটিং কোম্পানিগুলোও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোকে উল্লেখযোগ্য অর্থ দিয়েছে। এ খাতের মোট অনুদান প্রায় ৭ কোটি ৬০ লাখ ডলারে পৌঁছেছে।
এআই খাতের কোম্পানিগুলোর নির্বাচনী অনুদানও বেড়েছে। ওপেনএআই-সমর্থিত সুপার পিএসি ‘লিডিং দ্য ফিউচার’ এ পর্যন্ত প্রায় ৫ কোটি ডলার পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রিপাবলিকানদের সমর্থনে বড় অর্থপ্রবাহ
আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক সংগঠনগুলোতেও বড় অঙ্কের অর্থ যাচ্ছে।
রিপাবলিকানদের সমর্থক রাজনৈতিক অ্যাকশন কমিটিগুলোতে করপোরেট অনুদান বৃদ্ধির বিষয়টিও বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। কোচ ইনকরপোরেটেডের পক্ষ থেকে কোচ নেটওয়ার্কের রাজনৈতিক সংগঠন আমেরিকানস ফর প্রসপারিটি অ্যাকশনকে জুনে ২ কোটি ডলার দেওয়ার তথ্য রয়েছে।
এ ছাড়া তামাক কোম্পানি রেনল্ডস আমেরিকান ট্রাম্প-সমর্থক এমএজিএ ইনকরপোরেটেডকে ৫০ লাখ ডলার দিয়েছে বলে এফইসি নথির বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে।
ডার্ক মানির হিসাব নেই
তবে ৬৪ কোটি ৬০ লাখ ডলারের এই হিসাবকে করপোরেট রাজনৈতিক ব্যয়ের পূর্ণ চিত্র মনে করা হচ্ছে না। কারণ এতে ‘ডার্ক মানি’ সংগঠনগুলোর মাধ্যমে দেওয়া অর্থ এবং অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় নির্বাচনে কোম্পানিগুলোর ব্যয় অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
পাবলিক সিটিজেনের গবেষণা পরিচালক রিক ক্লেপুল করপোরেট অর্থের এই প্রবাহকে গণতন্ত্রের জন্য সতর্কসংকেত হিসেবে দেখেছেন। তাঁর মতে, রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় বড় প্রতিষ্ঠানের বিপুল অর্থের প্রভাব নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।
তবে রাজনৈতিক ব্যয়ের পক্ষে থাকা সংগঠনগুলোর যুক্তি, রাজনৈতিক মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার অংশ হিসেবেই ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অর্থ ব্যয়ের অধিকার থাকা উচিত।
সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে করপোরেট অর্থের প্রভাব আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।