সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার চাকলা গ্রামের তেলিখালী বিলে চিংড়িঘেরের নোনাপানি চুইয়ে ঢুকে আমন ধানের চারা নষ্ট হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, চিংড়িঘেরে নোনাপানি তোলার জন্য বেড়িবাঁধ ও রাস্তার নিচ দিয়ে পাইপ বসানো হয়েছে। এতে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি পাশের ফসলের জমিতে নোনাপানি ঢুকে ধানের চারা লালচে হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, তেলিখালী বিলের কোথাও ধানের চারা সবুজ থাকলেও চিংড়িঘেরের পাশের অনেক জমির চারা লালচে হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও চারা মরে পড়ে আছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বেড়িবাঁধের নিচ দিয়ে পাইপ বসিয়ে কপোতাক্ষ নদ থেকে চিংড়িঘেরে পানি নেওয়া হচ্ছে। তাঁদের অভিযোগ, ঘেরের নোনাপানি চুইয়ে পাশের কৃষিজমিতে ঢুকে ধানের ক্ষতি করছে।
ভুক্তভোগী কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অন্তত ৭ জন কৃষকের ১৩ বিঘা জমির ধানের চারা নোনাপানির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কৃষক নুরমান সরদার বলেন, তাঁর ছয় বিঘা জমির ধানের চারা লাল হয়ে গেছে। নোনাপানির কারণে এবার ধান উৎপাদন নিয়ে তিনি শঙ্কিত। তাঁর অভিযোগ, ঘেরমালিকেরা মাছ চাষের জন্য নোনাপানি তুললেও এর ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকেরা।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, চাকলা, শুভদ্রঘাটি, রুয়ার বিলসহ আশপাশের এলাকায় দেড় হাজারের বেশি বিঘা জমিতে ধান চাষ হয়েছে। অন্যদিকে কয়েকজন ঘেরমালিক প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ বিঘা জমিতে চিংড়ি চাষ করছেন।
চাকলা উন্নয়ন কমিটির সদস্য মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, বাঁধের উদ্দেশ্য ছিল ভেতরের জমিতে মিষ্টিপানিতে ধান চাষ করা। কিন্তু কয়েকজন ঘেরমালিক বাঁধ ও রাস্তার নিচ দিয়ে পাইপ বসিয়ে নোনাপানি তোলায় বিভিন্ন স্থানে ক্ষতি হচ্ছে।
এ ঘটনায় গত ২৩ আগস্ট এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগে ঘেরমালিক আসলাম হোসেনসহ ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে কপোতাক্ষ নদের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ কেটে পাইপ বসানোর অভিযোগ করা হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঘেরমালিক আসলাম হোসেন। তাঁর দাবি, তিনি নতুন করে বাঁধ বা রাস্তা কাটেননি। আগে থেকে থাকা পাইপের মুখ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্থানীয়দের পরামর্শে সেটি মেরামত করেছেন।
নোনাপানি তোলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দা ও ঘেরমালিকদের মধ্যে বিরোধেরও সৃষ্টি হয়েছে। কয়েক দিন আগে পাইপ বসানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রাশিদুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁরা অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন। ঘেরমালিক আসলাম হোসেনের বিরুদ্ধে পাউবোর পক্ষ থেকে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। একইভাবে আরও কয়েকজন বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত করে নোনাপানি তোলার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের বিরুদ্ধেও সরেজমিনে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।