যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি সেক্রেটারি ড্যানিয়েল ড্রিসকল পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। কয়েক মাস ধরে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ ও টানাপোড়েন চলছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রথম এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। পরে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা ড্রিসকলের পদত্যাগের খবর সরাসরি অস্বীকার করেনি।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি এক বিবৃতিতে বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কর্মসূচি বাস্তবায়নে ড্রিসকল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। সামরিক অভিযান, সেনাবাহিনীর প্রস্তুতি ও যুদ্ধ সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও তাঁর নেতৃত্বের প্রশংসা করা হয়।
তবে রয়টার্সকে একটি সূত্র জানিয়েছে, ড্রিসকলের পদত্যাগপত্র হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়। মার্কিন সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
হেগসেথ পেন্টাগনের দায়িত্ব নেওয়ার পর বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা ও প্রতিরক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা পদ হারিয়েছেন বা দায়িত্ব ছেড়েছেন। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ র্যান্ডি জর্জকে বরখাস্ত করার ঘটনাও রয়েছে। পরে ইউরোপ ও আফ্রিকায় মার্কিন সেনাবাহিনীর কমান্ডার জেনারেল ক্রিস্টোফার ডোনাহুও পদত্যাগ করেন।
ড্রিসকল ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আর্মি সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব নেন। দায়িত্বে থাকার সময় তিনি দ্রুত ও তুলনামূলক কম খরচে অস্ত্র সংগ্রহের উদ্যোগ নেন এবং বড় অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সমালোচনা করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রস্তুতি ও কাঠামোগত পরিবর্তন নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে উদ্বেগ জানিয়েছিলেন ড্রিসকল। একের পর এক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়ার কারণে এসব উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেছিলেন বলে জানা গেছে।
ড্রিসকলের সঙ্গে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তাঁরা একই সময়ে শিক্ষার্থী ছিলেন। এ কারণে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হেগসেথের জন্য সহজ ছিল না বলেও সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে।
সামরিক দায়িত্বের পাশাপাশি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার ক্ষেত্রেও ড্রিসকলকে কাজে লাগিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। মস্কো ও কিয়েভের সঙ্গে আলোচনায় তাঁর সম্পৃক্ততা মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের জন্য তুলনামূলক বিরল কূটনৈতিক দায়িত্ব হিসেবে দেখা হয়েছিল।