বলিউডের হরর সিনেমা ‘রাজ’ দিয়ে একসময় দর্শকের নজর কাড়া অভিনেত্রী মালিনী শর্মা দীর্ঘদিন ধরে অভিনয় থেকে দূরে রয়েছেন। প্রায় দুই দশক পর তাঁর বর্তমান জীবনযাপন নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছেন এই অভিনেত্রী।
সম্প্রতি জানা গেছে, মালিনী এখন ভারতের সাহ্যাদ্রি পাহাড় এলাকায় একটি ফার্মস্টে পরিচালনা করছেন। সেখানে অতিথিদের ঘরোয়া খাবার পরিবেশন করার পাশাপাশি স্থানীয় কৃষক ও কারুশিল্পীদের তৈরি বিভিন্ন পণ্যের প্রচার করছেন তিনি। বলিউডের ব্যস্ততা ছেড়ে প্রকৃতির কাছাকাছি তাঁর এই জীবনযাপনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।
প্রতিবেদন প্রকাশের আগে মালিনীর ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যা ছিল মাত্র ৬৪৪। কিন্তু খবরটি প্রকাশের পর মাত্র এক সপ্তাহেই তাঁর অনুসারী বেড়ে ২৮ হাজার ছাড়িয়েছে। পুরোনো ভক্তদের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের অনেকেই তাঁর জীবন সম্পর্কে জানতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে অনুসরণ করছেন।
এই আকস্মিক জনপ্রিয়তায় নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছেন মালিনী। সেখানে তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এত মানুষ তাঁর বর্তমান জীবন নিয়ে আগ্রহ দেখাবেন—এটা তিনি কল্পনাও করেননি। অসংখ্য শুভেচ্ছা ও ভালোবাসার বার্তা পেলেও সবার উত্তর দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
২০০২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘রাজ’ সিনেমার মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পান মালিনী শর্মা। সে সময় তাঁকে বলিউডের সম্ভাবনাময় অভিনেত্রী হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। তবে ক্যারিয়ারের শুরুতেই অভিনয় থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন তিনি।
পরবর্তী সময়ে শহুরে জীবন ছেড়ে সাহ্যাদ্রি পাহাড়ে স্থায়ী হন মালিনী। বর্তমানে তাঁর জীবন কাটছে ফার্মস্টে পরিচালনা, ঘরোয়া খাবার তৈরি এবং স্থানীয় পণ্য ও প্রকৃতিনির্ভর জীবনযাপনের সঙ্গে।
মালিনীর এই গল্প ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তাঁর জীবনযাপনের প্রশংসা করেছেন। অনেকে মনে করছেন, জনপ্রিয়তার পেছনে না ছুটে নিজের পছন্দের জীবন বেছে নেওয়ার সাহসই তাঁকে আলাদা করেছে।
বলিউডে ফেরার বিষয়ে এক ভক্তের প্রশ্নের জবাবে মালিনী অবশ্য ইঙ্গিত দিয়েছেন, অভিনয় থেকে তাঁর দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তাঁর ভাষায়, “কে বলেছে আমি ছেড়ে দিয়েছি? আমি শুধু দিক বদলেছি।”