বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬
১৯ ভাদ্র ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> মেসির সম্মানে আর্জেন্টিনার ঘরোয়া ফুটবলে ১০ মিনিটে থামবে খেলা

>> দুই হাত তুলে রাস্তা পার হওয়ার সময় বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল রতনের

>> ভাড়া বাড়ানোর দাবিতে চট্টগ্রামে ৩ নম্বর রুটের মিনিবাস বন্ধ, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

>> গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট কাটাতে সময় লাগতে পারে, চুরি-লুটপাট বন্ধে নয়: ক্যাব সভাপতি

>> নভেম্বরে চার জাতির টুর্নামেন্টে ব্রাজিলের মুখোমুখি জাপান

>> আত্মশুদ্ধির পথে নিভৃত ইবাদতের গুরুত্ব

>> বন্যা-ভাঙন ঠেকাতে ‘জাদুর ঘাস’ ব্যবহারের পরিকল্পনা সরকারের

>> দিশা সালিয়ানের মৃত্যুতে নতুন মোড়, সিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ বম্বে হাইকোর্টের

>> বাস ভাঙচুর ও শ্রমিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে জামালপুরে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট

>> সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা ইয়ার্ডে ১০ মৃত্যু, সরকারি সংস্থার গাফিলতি পায়নি তদন্ত কমিটি

আপনি পড়ছেন : অর্থনীতি

গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট কাটাতে সময় লাগতে পারে, চুরি-লুটপাট বন্ধে নয়: ক্যাব সভাপতি


Rabeya ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ২:০৪



গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট কাটাতে সময় লাগতে পারে, চুরি-লুটপাট বন্ধে নয়: ক্যাব সভাপতি


দেশের গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে সময় প্রয়োজন হতে পারে। তবে অনিয়ম, চুরি ও লুটপাট বন্ধ করতে কোনো দীর্ঘ সময় লাগার কথা নয় বলে মন্তব্য করেছেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান।

বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ক্যাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অপ্রাপ্ততা এবং অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে’ সভাটির আয়োজন করা হয়।

এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, বিদ্যুতের দাম গড়ে প্রায় ২০ শতাংশ বাড়লেও সাম্প্রতিক সময়ে অনেক গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। অথচ লোডশেডিংয়ের কারণে তাদের বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ কমেছে। তাঁর প্রশ্ন, ব্যবহার কমার পরও বিল এত বাড়ছে কেন। তাঁর মতে, আগে বিদ্যুৎ খাতের অনিয়ম ও চুরি বন্ধ করা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে আমদানিনির্ভরতা বাড়ানো হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সংকটের সময় স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার পরিবর্তে সরাসরি জ্বালানি কেনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে কি না, সেটিও স্পষ্ট করা দরকার।

ক্যাব সভাপতি বলেন, সরাসরি জ্বালানি কেনাকাটায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন ওঠার সুযোগ থাকে। তাই সংকটের প্রকৃত চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। পাশাপাশি চুরি ও লুটপাট বন্ধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কিছু ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে দাম বাড়ানোর সুযোগ দেওয়া হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, কোনো পণ্যের বাজারের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে থাকলে তারা সরবরাহ কমিয়ে বাজার অস্থিতিশীল করতে পারে।

পোলাও চালের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও সরবরাহের সংকট দেখিয়ে দাম বাড়ানো হচ্ছে কি না, তা তদন্ত করা দরকার। অনুমোদিত সীমার বেশি পণ্য মজুত করে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করলে সংশ্লিষ্ট গুদামের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

এ এইচ এম সফিকুজ্জামান প্রশ্ন রাখেন, যারা সংকট তৈরি করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করছে, সরকার তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে, নাকি তাদেরই সুবিধা দেওয়া হবে।

অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ক্যাব সভাপতি। তাঁর মতে, এ সিদ্ধান্তে বড় ওষুধ কোম্পানিগুলোর স্বার্থ প্রাধান্য পেয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। জনগণকে বাদ দিয়ে কোনো নীতি প্রণয়ন করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ওষুধের তালিকা ও মূল্য নির্ধারণে ভোক্তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস-সংকটে অর্থনীতি বিপর্যয়ের আশঙ্কা

এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, গ্যাসের সংকট দীর্ঘায়িত হলে দেশের অর্থনীতি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। ইতোমধ্যে প্রায় ৪০০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান সংকটে পড়েছে। রপ্তানি আয়ের গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পরিবহন ব্যয়ের তুলনায় পণ্যের বাজারদরে অনেক বেশি পড়ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, পরিবহন খরচ সামান্য বাড়লেও অনেক ক্ষেত্রে পণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাচ্ছে।

সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় আসার পরও যদি দীর্ঘ সময় ধরে সংকট চলার বার্তা দেয়, তাহলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা কীভাবে তৈরি হবে—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।

‘অপ্রতুলতা’ দেখিয়ে দায় এড়ানো যাবে না

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটকে শুধু সম্পদের অপ্রতুলতা হিসেবে দেখিয়ে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স।

তিনি বলেন, দেশের স্থলভাগ ও সমুদ্র এলাকায় গ্যাসসহ বিভিন্ন জ্বালানি সম্পদের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে সৌর, পানি ও বায়ু থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগও আছে। এসব সম্পদের যথাযথ অনুসন্ধান, উত্তোলন ও ব্যবহারে ব্যর্থতার দায় অতীতে যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে, তাদের নিতে হবে।

রুহিন হোসেন প্রিন্সের অভিযোগ, গ্রাহকদের কাছ থেকে গ্যাস উন্নয়ন তহবিলের নামে অর্থ নেওয়া হলেও সেই অর্থের যথাযথ ব্যবহার হয়নি। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের পরিবর্তে এলএনজি আমদানি এবং অবকাঠামো নির্মাণে বেশি অর্থ ব্যয় করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

যেসব এলাকায় গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে না, সেসব গ্রাহকের কাছ থেকে বিল নেওয়া বন্ধের দাবি জানান তিনি। ভুলনীতি ও দুর্নীতির দায় জনগণের ওপর চাপিয়ে জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো যাবে না বলেও মন্তব্য করেন।

অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা বাতিলের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি জীবন রক্ষাকারী ওষুধের তালিকা ও যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণের দাবি জানান। একই সঙ্গে নকল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

জ্বালানি খাতে স্বাধীন তদন্তের দাবি

বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, বর্তমান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের দায় শুধু আগের সরকারের ওপর চাপিয়ে দিলে সমস্যার প্রকৃত কারণ বের হবে না। সংকটের কারণ নির্ধারণে স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন।

তিনি অভিযোগ করেন, দেশে গ্যাস উত্তোলনের বিদ্যমান সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে না লাগিয়ে এলএনজি আমদানির দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাঁর মতে, বাপেক্সসহ দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে দ্রুত সংকট মোকাবিলার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

গ্যাস না পেলেও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে পূর্ণ বিল নেওয়া এবং এলপিজি ব্যবসাকে সুবিধা দেওয়ার নীতির সমালোচনা করেন তিনি। দেশের নিজস্ব জ্বালানি সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে স্বনির্ভরতা বাড়ানোকে সরকারের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন।

ওষুধের মূল্য নির্ধারণের ক্ষমতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্তেরও বিরোধিতা করেন মহিউদ্দিন আহমেদ। তাঁর মতে, কোম্পানিগুলো মূল্য নির্ধারণের প্রস্তাব দিতে পারে; তবে চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণের দায়িত্ব সরকারের কাছেই থাকা উচিত এবং এ প্রক্রিয়ায় স্বাধীন বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের যুক্ত করা প্রয়োজন।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন ক্যাবের উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর ভূঁইয়া, কোষাধ্যক্ষ শওকত আলী খান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ।