খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ব পাশের ইসলামনগর এলাকার একটি ছাত্র মেসে নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আজমুল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার দিবাগত রাতে ভাত ও টাকা চুরির অভিযোগ তুলে তাঁকে মারধর করা হয় বলে পরিবারের অভিযোগ।
আজ রোববার সকালে ওই মেসে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। ভবনটি খোলা থাকলেও চারতলার প্রতিটি কক্ষ তালাবদ্ধ ছিল। করিডরে শিক্ষার্থীদের জামাকাপড় ও জুতা-স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখা যায়। ছাদের ফটকও খোলা ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে অধিকাংশই ঘটনার বিষয়ে কিছু জানেন না বলে এড়িয়ে যান। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, এলাকায় অনেক শিক্ষার্থী থাকেন। কোনো ঝামেলায় জড়াতে চান না স্থানীয়রা।
পাশের একটি ভবনে থাকা এক শিক্ষার্থী জানান, আগের দিন পর্যন্ত এলাকায় স্বাভাবিক চলাচল থাকলেও ঘটনার পর পরিবেশ অনেকটা নীরব। ওই রাতে কী ঘটেছিল জানতে চাইলে তিনিও বলেন, ‘আমি কিছু জানি না।’
খানজাহান আলী হলের কাছের এক শিক্ষার্থী জানান, ক্যাম্পাস ও আশপাশের পরিস্থিতি মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও মসজিদ গলি এখন কিছুটা নিরিবিলি। তিনি শুনেছেন, মারধরের ঘটনায় জড়িতরা পালিয়ে গেছেন। হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবিতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন চলছে।
এর আগে স্থানীয় এক নারীসহ তিনজন দাবি করেছিলেন, শুক্রবার রাতে ওই ভবন থেকে চিৎকারের শব্দ শুনেছিলেন তাঁরা। রাত একটার পর আজমুলকে হাসপাতালে নিয়ে যেতেও তাঁরা দেখেছেন বলে জানান।
আজমুলের বাবা কুতুব উদ্দিনের অভিযোগ, ঘটনার রাতে তাঁর ছেলে ফোন করে জানায়, মেসে তাঁর বিরুদ্ধে ভাত ও টাকা চুরির অভিযোগ তুলে এক লাখ টাকা দাবি করা হচ্ছে। পরে খুলনায় গিয়ে তিনি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ছেলের মরদেহ দেখতে পান।
এ ঘটনায় আজমুলের বাবা হরিণটানা থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক চার শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন থানার ওসি ইকবাল হোসেন।
তবে রোববার বেলা পৌনে দুইটা পর্যন্ত মামলায় কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।