সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা ও নিরাপত্তাকর্মীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা। অন্যদিকে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইন অনুযায়ী বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
শুক্রবার রাত সাড়ে আটটার দিকে কটিয়াদীর গচিহাটা বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা। সহশ্রাম-ধূলদিয়া ও চান্দপুর ইউনিয়ন জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে আখতারুজ্জামানের মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। মিছিলে দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও অংশ নেন।
এদিকে আখতারুজ্জামানের মুক্তির দাবিতে শনিবার বিকেলে কটিয়াদী উপজেলা শহরে এবং সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জ জেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, আন্দোলন জেলার ১৩টি উপজেলায় ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
কটিয়াদী উপজেলা জামায়াতের আমির মোজাম্মেল হক জোয়াদ্দার বলেন, প্রবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে বিমানবন্দরে বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তাঁর দাবি, আখতারুজ্জামান যাত্রীদের ভোগান্তি ও অনিয়মের প্রতিবাদ করেছেন। তাঁর মুক্তির দাবিতে কিশোরগঞ্জে শুরু হওয়া আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি।
তবে এ গ্রেপ্তার নিয়ে ভিন্নমত জানিয়েছেন বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারা।
কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম বলেন, আখতারুজ্জামান অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে তুলে ধরেন, যা সমর্থনযোগ্য নয়। তাঁর মতে, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সবার জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য হওয়া উচিত। তিনি বলেন, আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হওয়া উচিত।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কিশোরগঞ্জ জেলা সভাপতি আব্দুর রহমানও উত্তেজনা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বাড়ি ও আখতারুজ্জামানের বাড়ি একই ইউনিয়নে। তিনি বলেন, বিমানবন্দরের ঘটনায় কী ঘটেছে, তা আইনের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। এ নিয়ে অযথা উত্তেজনা তৈরি করা ঠিক হবে না।
অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশ আখতারুজ্জামানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ প্রয়োজন ছিল বলে তাঁরা মনে করেন।
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিরোধের জেরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং নিরাপত্তাকর্মীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার রাতে বিমানবন্দর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
পরদিন শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার নিজ বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরে তাঁকে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়।
আখতারুজ্জামান কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।
দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তিনি একাধিকবার বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। তাঁর দল পরিবর্তনের ঘটনাকে কেন্দ্র করেও সে সময় কিশোরগঞ্জে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছিল।