শনিবার, অক্টোবর ৩, ২০২৬
১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তার নিয়ে কটিয়াদীতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া, মুক্তির দাবিতে জামায়াতের বিক্ষোভ

>> ‘আমি আওয়ামী লীগার না’ বলে আদালত চত্বরে হেলমেট ছুড়ে ফেললেন আখতারুজ্জামান

>> দেশে আবার দুর্নীতি বেড়েছে, সীমান্তে পাহারা বসানোর দাবি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর

>> বাসের টিকিট বিক্রি নিয়ে বিরোধ, দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ১০

>> ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে ১০ অক্টোবর দিল্লিতে বিক্ষোভের ডাক

>> সরকারি দপ্তরের পাশেই জরাজীর্ণ স্কুল ভবন, ঝুঁকি নিয়ে চলছে পাঠদান

>> ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিআরটিএ কার্যালয়ে সেবা পেতে ঘুষ ও দালালচক্রের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ

>> রাড্ডায় হামলা–মিষ্টির পদত্যাগ: বিএনপির কঠোরতা কতটা কার্যকর হবে?

>> রাড্ডার ঘটনায় বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ চাইলেন জামায়াত আমির

>> রাড্ডা ভাঙচুরের ঘটনায় কঠোর অবস্থানে সরকার, দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা

আপনি পড়ছেন : রাজনীতি

‘আমি আওয়ামী লীগার না’ বলে আদালত চত্বরে হেলমেট ছুড়ে ফেললেন আখতারুজ্জামান


৩ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ২:২৭



‘আমি আওয়ামী লীগার না’ বলে আদালত চত্বরে হেলমেট ছুড়ে ফেললেন আখতারুজ্জামান

‘আমি আওয়ামী লীগার না’ বলে আদালত চত্বরে হেলমেট ছুড়ে ফেললেন আখতারুজ্জামান

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে গ্রেপ্তার জামায়াত নেতা ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামান আদালত চত্বরে পুলিশের দেওয়া হেলমেট ছুড়ে ফেলেছেন। শনিবার (৩ অক্টোবর) বিমানবন্দর থানার মামলায় তাঁকে প্রিজনভ্যান থেকে নামানোর সময় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় হাতকড়া ও হেলমেট পরানো নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

আখতারুজ্জামান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত দেশে তাঁকে হাতকড়া ও হেলমেট পরানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলার কারণেই তাঁকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।

আদালতে নেওয়ার সময় প্রিজনভ্যানের ভেতর থেকে পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে আঙুল তুলে কথা বলতে দেখা যায় তাঁকে। একপর্যায়ে তিনি মাথা থেকে হেলমেট খুলে ছুড়ে ফেলেন।

এ সময় জামায়াতের এই নেতা বলেন, জুলুম-নির্যাতন করে তাঁদের থামানো যাবে না। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিমানবন্দরে কী ঘটেছিল

গত বৃহস্পতিবার সকালে সৌদি আরবের মদিনা থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দেশে ফেরেন ওমরাহ পালনকারী যাত্রীরা। তাঁদের মধ্যে আখতারুজ্জামানও ছিলেন। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর জমজমের পানি সরবরাহে বিলম্ব হওয়ায় তিনি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদকে উদ্দেশ করে আখতারুজ্জামানকে রূঢ় ভাষায় কথা বলতে শোনা যায়। এ সময় তাঁকে কর্মকর্তাকে হুমকি দিতেও দেখা যায় বলে অভিযোগ ওঠে।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে এমন আচরণ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

যে অভিযোগে মামলা ও গ্রেপ্তার

শুক্রবার বিমানবন্দর থানায় আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা করেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) নিরাপত্তা কর্মকর্তা শাহরিয়ার আলম সজীব। মামলায় সরকারি কাজে বাধা দেওয়া ও হুমকি প্রদানের অভিযোগ আনা হয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) শফিকুল ইসলাম জানান, বিমানবন্দর থানার মামলায় আখতারুজ্জামানকে তাঁর বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৩৮ ফ্লাইটে জামায়াতের ৩৪ জন প্রতিনিধি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মদিনা থেকে ঢাকায় পৌঁছান। ওই সময় বিমানবন্দরে যাত্রীদের বাড়তি চাপ থাকায় ট্রলি সংগ্রহের জন্য দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছিল। কয়েকজন প্রটোকল সহকারী লাইনের নিয়ম ভেঙে ট্রলি নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

লাগেজ পেতে দেরি এবং জমজমের পানি সরবরাহে বিলম্বের কারণে কয়েকজন যাত্রী উত্তেজিত হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ করা হয়।

এজাহারে বলা হয়েছে, বেলা পৌনে ১১টার দিকে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে ঘটনাস্থলে আসতে বলেন। নির্বাহী পরিচালক সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন। এ সময় আখতারুজ্জামান তাঁর সঙ্গে রূঢ় ও অশালীন আচরণ করেন এবং শারীরিকভাবে আক্রমণ করার হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় সংসদ সদস্য কামাল হোসেন নির্বাহী পরিচালককে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিমানবন্দরের নিরাপত্তা সুপারভাইজার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিনের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও তাঁকে শারীরিকভাবে আঘাত করার অভিযোগও আনা হয়েছে আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে। পরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক প্রতিনিধির সঙ্গেও তিনি অশোভন আচরণ করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

এজাহারের অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় সাধারণ যাত্রীদের জন্য রাখা জমজমের পানির বোতলও ট্রলি থেকে ছুড়ে ফেলা হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসা বাকি।

জমজমের পানি সরবরাহে বিলম্বের ব্যাখ্যা বিমানের

ওমরাহ যাত্রীদের জমজমের পানি সরবরাহে দেরির ঘটনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যাগেজ ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম প্রধান ও ফ্লাইট সুপারভাইজার সাদ্দাম হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে তাঁদের ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, কনটেইনার নামানো ও পরিচালনাগত ত্রুটির কারণে ব্যাগেজ বেল্টে সময়মতো জমজমের পানি পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

বিষয়টি নজরে আসার পর যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে সংরক্ষিত মজুত থেকে দ্রুত পানি বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়। পরে অন্য কনটেইনারটি শনাক্ত করে সেখান থেকেও পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

আখতারুজ্জামানের মুক্তি দাবি জামায়াতের

গ্রেপ্তার আখতারুজ্জামানকে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।