জয়পুরহাট জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত নার্সারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দেয়ালে ফাটল, খসে পড়ছে পলেস্তারা। বৃষ্টি হলে ছাদ চুইয়ে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে। এমন পরিবেশেই প্রতিদিন পাঠদান চলছে বিদ্যালয়টিতে। এতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বিদ্যালয়টির আশপাশেই রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তর। সামনে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়, দূরত্ব প্রায় ১৫০ গজ। পেছনে সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়, মাত্র ২০ গজ দূরে। কাছেই জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও উপজেলা পরিষদ। অথচ এসব দপ্তরের কাছেই দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ভবনে পাঠদান চলছে।
গত ২০ সেপ্টেম্বর দুপুরে বিদ্যালয়টি ঘুরে দেখা যায়, একতলা ভবনটিতে মোট পাঁচটি কক্ষ রয়েছে। এর মধ্যে একটি কক্ষে তালা ঝুলছে, সেখানে পাঠদান হয় না। আরেকটি কক্ষ শিক্ষকদের দাপ্তরিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। বাকি তিনটি কক্ষে চলে বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান। ভবনের বিভিন্ন স্থানে দেয়ালে ফাটল দেখা গেছে। কোথাও পলেস্তারা খসে ইট বেরিয়ে এসেছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য রয়েছে মাত্র একটি শৌচাগার।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮০ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার সময় ভবনটি নির্মাণ করা হয়। ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয়। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়নি। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ছয়জন শিক্ষক ও ১০২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। ৮৩ শতক জমি থাকা সত্ত্বেও শ্রেণিকক্ষের সংকট রয়ে গেছে।
বিদ্যালয়ের তৃতীয় ও পঞ্চম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী জানায়, শ্রেণিকক্ষের দেয়ালে ফাটল থাকায় তাদের মধ্যে সব সময় ভয় কাজ করে।
শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ইমতিয়াজ আহমেদ ও শিউলি খাতুন বলেন, জরাজীর্ণ ভবনে সন্তানদের পাঠিয়ে তাঁরা দুশ্চিন্তায় থাকেন। ভবনের কোনো অংশ ভেঙে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করেন তাঁরা। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করে নিরাপদ পরিবেশে পাঠদানের ব্যবস্থা করার দাবি জানান এই অভিভাবকেরা।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইশরাত জাহান বলেন, বিদ্যালয়ের পরিবেশ ভালো না হওয়ায় দিন দিন শিক্ষার্থী কমছে। গ্রামের অনেক বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণ করা হলেও জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত এই বিদ্যালয়ে এখনো নতুন ভবন তৈরি হয়নি। এ ছাড়া একটি মাত্র শৌচাগার ব্যবহার করতে গিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সমস্যায় পড়তে হয়।
প্রধান শিক্ষক লাইলা আকতার জাহান জানান, ২০১৮ সালে বিদ্যালয়ে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তিনি ভবনটির এমন অবস্থা দেখে আসছেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনো নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়নি।
শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার বিষয়ে প্রধান শিক্ষক বলেন, ভবনের দুরবস্থা দেখে চলতি বছর ১৫ থেকে ২০ জন অভিভাবক তাঁদের সন্তানদের ভর্তি না করিয়ে অন্য বিদ্যালয়ে নিয়ে গেছেন। আগে থেকে ভর্তি থাকা কিছু শিক্ষার্থীও অন্য বিদ্যালয়ে চলে গেছে। বিদ্যালয় চলাকালে ভূমিকম্পের মতো ঘটনা ঘটলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে।
এদিকে প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির (পিইডিপি-৫) আওতায় বিদ্যালয়টির নতুন ভবন নির্মাণের প্রস্তাব কয়েক মাস আগে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন জয়পুরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জেছের আলী ও সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামীম ইকবাল।