জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলগুলোর ধারাবাহিক কর্মসূচির পাশাপাশি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন তৎপরতার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করছে বিএনপি। দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের মাঠে সক্রিয় থাকা এবং স্থানীয় ইস্যুতে কর্মসূচি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিএনপির নেতারা বলছেন, বিরোধী দলগুলোর কর্মসূচির চাপে নয়; জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করে এমন প্রচারণার জবাব এবং আওয়ামী লীগের কথিত তৎপরতার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরতেই দলীয় কার্যক্রম বাড়ানো হচ্ছে।
সম্প্রতি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করতে দেখা গেছে। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় কার্যালয় সক্রিয় রাখা, সাংগঠনিক সভা করা এবং থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দলীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, জ্বালানি সংকট এবং সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়টি নিয়েও বিএনপির ভেতরে আলোচনা চলছে। ২১ সেপ্টেম্বর চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়। নতুন দামে ডিজেল ১৩৫, কেরোসিন ১৫৫, পেট্রল ১৬০ এবং অকটেন ১৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এবি পার্টিসহ কয়েকটি দল বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে।
এর আগে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলার উন্নতি এবং অন্যান্য দাবিতে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় লংমার্চ ও সমাবেশ করেছে। ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম এবং ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুরমুখী লংমার্চের কর্মসূচি ছিল জোটটির।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে বলেছেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে সরকারকে জ্বালানির দাম সমন্বয় করতে হয়েছে। তাঁর দাবি, দাম বাড়ানোর পরও প্রতি লিটার ডিজেলে সরকারের প্রায় ৭০ টাকা লোকসান থাকবে।
বিরোধী দলগুলোর কর্মসূচি প্রসঙ্গে রিজভী বলেছেন, রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের অধিকার সবার রয়েছে। তবে কর্মসূচির নামে সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ বা সরকারি সম্পদ ধ্বংসের কোনো সুযোগ নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।
অন্যদিকে জামায়াতের নেতারা বলছেন, জ্বালানি ও অন্যান্য জনদুর্ভোগের বিষয়গুলো সামনে রেখেই তাঁদের কর্মসূচি চলছে। দলটির পক্ষ থেকে জ্বালানির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
এদিকে আওয়ামী লীগের তৎপরতা নিয়ে বিএনপির নেতারা বিভিন্ন বক্তব্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি রাজধানীতে অগ্নিসংযোগসহ কয়েকটি ঘটনার সঙ্গে দলটির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও করেছেন বিএনপির নেতারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য এখানে আলাদাভাবে পাওয়া যায়নি।
সব মিলিয়ে বিরোধী দলগুলোর ধারাবাহিক কর্মসূচি, জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি এবং আওয়ামী লীগের তৎপরতার অভিযোগের মধ্যে বিএনপি মাঠপর্যায়ে নিজেদের সাংগঠনিক উপস্থিতি বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। দলটির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এসব কার্যক্রমের উদ্দেশ্য নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরা এবং স্থানীয় পর্যায়ে নেতা-কর্মীদের আরও সক্রিয় রাখা।