ঢাকার কেরানীগঞ্জে সেলুনের ভেতরে ঢুকে ফরহাদ হোসেন (৩০) নামে এক যুবককে গুলি ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে আরশিনগর এলাকার ‘রাজ বারবার জোন’ সেলুনে চুল কাটাতে গিয়েছিলেন ফরহাদ। সেখানে অবস্থানকালে তাঁকে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে বিকেল চারটার দিকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় বুধবার সকালে ফরহাদের মা নাসিমা বেগম বাদী হয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও সাত থেকে আটজনকে আসামি করা হয়েছে।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল কুদ্দুছ জানান, মামলার পর দুজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ফরহাদ কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের মোহাম্মদপুর থানা কমিটির সদস্য ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর ও আদাবর থানায় হত্যা, মাদক ও দস্যুতাসহ মোট ছয়টি মামলা রয়েছে।
ফরহাদ কেরানীগঞ্জের আরশিনগরের মেম্বার গলিতে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি ভোলার দৌলতখান উপজেলার নুরাবাদ গ্রামে। স্বজনদের ভাষ্য, তিনি ঢাকার মোহাম্মদপুরের মহিরগোলা এলাকায় ফুটপাতে মাছ বিক্রির ব্যবসা করতেন।
বুধবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, সেলুনটির আশপাশের কয়েকটি দোকান বন্ধ রয়েছে। সেলুনের সামনে যেখানে ফরহাদকে কুপিয়ে আহত করা হয়েছিল, সেখানে রক্তের দাগের জায়গাটি ইট দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ফরহাদকে প্রায়ই কয়েকজনের সঙ্গে এলাকায় দেখা যেত। তাঁদের নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ভীতির পরিবেশ ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
দিনের বেলায় সেলুনের মতো একটি স্থানে গুলি ও হামলার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন বাসিন্দারা।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।