১১-দলীয় ঐক্যের ঘোষিত লংমার্চ নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে ওঠা সমালোচনার জবাব দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, সরকারের কোনো উদ্যোগ বা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সমস্যা থাকলে সেটি স্পষ্টভাবে জনগণকে জানানো উচিত।
সোমবার বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
গোলাম পরওয়ারের দাবি, দেশের বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের কার্যক্রম নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এসব বিষয়ে সরকারের ব্যর্থতা থাকলে তা স্বীকার করে জনগণের কাছে পরিষ্কার অবস্থান তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়ায় ১১ দলের ঘোষিত লংমার্চ সময়োপযোগী এবং যৌক্তিক কর্মসূচি।
সাত দফা দাবি সামনে রেখে আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা ও কুষ্টিয়া অভিমুখে লংমার্চ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ১১-দলীয় ঐক্য। এ কর্মসূচি সফল করতে সোমবার প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনাও আলোচনায় আসে। বীর মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার ও রিমান্ডের ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে তাঁর মুক্তি দাবি করা হয়। একই সঙ্গে কুষ্টিয়ায় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িতে হামলার অভিযোগেরও নিন্দা জানানো হয়।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন নেতারা। একই সঙ্গে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
লংমার্চের কর্মসূচি সম্পর্কে গোলাম পরওয়ার জানান, ৩১ অক্টোবর সকাল ৭টায় ঢাকার বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। এরপর পদ্মা সেতু হয়ে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট, খুলনা ও যশোর হয়ে কুষ্টিয়ায় পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
পথে কয়েকটি স্থানে পথসভা করার কথাও জানান তিনি। এর মধ্যে শরীয়তপুরের জাজিরা, বাগেরহাটের ফকিরহাট, খুলনা মহানগরের শিববাড়ি, ফুলতলা, যশোরের চাঁচড়া এবং ঝিনাইদহের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কর্মসূচি রাখার কথা রয়েছে।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, লংমার্চে অংশগ্রহণকারীদের কোনো ধরনের উসকানিতে পা না দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে। ধৈর্য ও শৃঙ্খলা বজায় রেখেই কর্মসূচি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
এ সময় অটোরিকশা চালকদের বিভিন্ন দাবির প্রসঙ্গও ওঠে। গোলাম পরওয়ারের মতে, সরকারকে চালকদের দাবিগুলো বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
১১-দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির সভায় বিভিন্ন দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা লংমার্চের সার্বিক প্রস্তুতি, কর্মসূচির বাস্তবায়ন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।
এদিকে ৩১ অক্টোবরের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সাত দফা দাবি নিয়ে ১১ দলের এই কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত সরকারের ওপর কতটা রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।