বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬
৯ আশ্বিন ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> রডের বদলে বাঁশ, সেতু নির্মাণে অনিয়ম: এলজিইডির ৩ কর্মকর্তা–কর্মচারী সাময়িক বরখাস্ত

>> কালিয়াকৈরে দুই কলোনিতে আগুন, পুড়েছে ২৩ কক্ষ ও ৫ দোকান

>> এলপিজি সংকট, বেড়েছে দামও—কী কারণে

>> গাজার পুনর্গঠনে ২৪০ কোটি ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা ট্রাম্পের ‘শান্তি পর্ষদের’

>> ব্রাজিলের পেনাল্টি-ঘা শুকানোর ‘ওষুধ’ রাফিনিয়া

>> ভোটার স্থানান্তর কার্যক্রম আবার চালু করল ইসি

>> রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও এমপিদের বেতন বাড়ানো অন্যায় হবে: জামায়াতের আমির

>> পশ্চিমবঙ্গে ৩ লাখের বেশি বোতল ফেনসিডিল ধ্বংস

>> কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ৬২৪ জন আটক

>> ‘দক্ষিণ এশিয়ার রোল মডেল’ হামজার সঙ্গে মিলে বাংলাদেশকে জেতাতে চান ফারহান

আপনি পড়ছেন : জাতীয়

এলপিজি সংকট, বেড়েছে দামও—কী কারণে


Rabeya ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১২:৫২



এলপিজি সংকট, বেড়েছে দামও—কী কারণে


মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। বিশ্ববাজারে দাম বেড়ে যাওয়া এবং সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশে এলপিজি আমদানিও কমেছে। ফলে চাহিদার তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার ২ হাজার টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে দেশে প্রায় ১ লাখ ৫৮ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছিল। ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলতি মাসে আমদানি হয়েছে প্রায় ১ লাখ ১৯ হাজার টন। নিয়মিতভাবে এলপিজি আমদানি করে এমন কোম্পানির সংখ্যাও কমে গেছে।

এলপিজি অপারেটরদের সংগঠন লোয়াবের সদস্যদের ভাষ্য, হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরে চলাচলে বাধা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনা ও জাহাজে হামলার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে জাহাজভাড়াও কয়েক গুণ বেড়েছে। ফলে কেউ কেউ আমদানি বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, যেসব প্রতিষ্ঠানের এলপিজি আমদানির চুক্তি রয়েছে, তারাও চুক্তির তুলনায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম সরবরাহ পাচ্ছে। বিশ্ববাজারে এলপিজির দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আগে ১৬০ ডলার আমদানি মূল্য ধরে দাম সমন্বয় করেছিল। বর্তমানে বিশ্ববাজারে দাম ২৬০ থেকে ৪০০ ডলার পর্যন্ত উঠেছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

এলপিজি বাজারের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান মেঘনা ফ্রেশ এলপি গ্যাসের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা আবু সাঈদ রাজা বলেন, বেশি দামেও আমদানি বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু বিশ্ববাজারে চাহিদা অনুযায়ী এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না।

দেশের এলপিজি বাজারের প্রায় ১ শতাংশ সরকারি কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে, বাকি অংশ বেসরকারি খাতের হাতে। বেসরকারি খাতে আমদানি কমে যাওয়ায় গত ডিসেম্বরেও দেশে এলপিজি সংকট তৈরি হয়েছিল। এরপর সরকার সরাসরি এলপিজি আমদানির উদ্যোগ নেয়। তবে কয়েক দফা সরবরাহকারী খোঁজা হলেও কোনো প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখায়নি।

পরে স্পিড মার্কেটিং নামের একটি প্রতিষ্ঠান ৫ হাজার টন এলপিজি সরবরাহের আগ্রহ প্রকাশ করলে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে তাদের কাজ দেওয়া হয়। তবে সেই এলপিজি কবে দেশে আসবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

লোয়াবের সভাপতি আমিরুল হক বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে সংকট আরও বাড়তে পারে। তাঁর মতে, সরকার সরাসরি এলপিজি আমদানি করে বাজারে সরবরাহ বাড়াতে পারে।

দেশে আবাসিক নতুন গ্যাস-সংযোগ বন্ধ হওয়ার পর ২০১৫ সাল থেকে রান্নার জ্বালানি হিসেবে এলপিজির ব্যবহার দ্রুত বেড়েছে। বর্তমানে বছরে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লাখ টন এলপিজির চাহিদা রয়েছে। প্রায় এক কোটি মানুষ এলপিজি ব্যবহার করেন। মোট ব্যবহারের প্রায় ৮০ শতাংশই যায় গৃহস্থালির রান্নায়।

এদিকে প্রতি মাসে এলপিজির দাম সমন্বয় করে বিইআরসি। চলতি মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের সরকারি নির্ধারিত দাম ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা করা হয়েছিল। কিন্তু বাজারে ভোক্তাদের ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কোথাও কোথাও ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ১০০ টাকা ছাড়িয়েছে।

এর আগে গত ডিসেম্বরের সংকটের সময় কোনো কোনো এলাকায় একটি ১২ কেজির সিলিন্ডার ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছিল।

বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, কয়েক দিন ধরে বাজারে এলপিজির বাড়তি দামের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। সংকটের সময়ে খুচরা বিক্রেতারা দোকান বন্ধ করে দিলে সরবরাহ আরও কমে যেতে পারে। আমদানি আপাতত চললেও ভবিষ্যতে তা অব্যাহত রাখা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।