যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার পুনর্গঠনে ২৪০ কোটি ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পর্ষদ। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বুধবার এ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। তবে পুনর্গঠনের পরিকল্পনার মধ্যেও গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
শান্তি পর্ষদের পরিকল্পনায় গাজার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে মধ্যম মেয়াদে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি ডলার প্রয়োজন হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী ১০ বছরে পুনর্গঠনের জন্য আরও প্রায় ৭ হাজার ১৪০ কোটি ডলার প্রয়োজন হতে পারে। এ জন্য ৬৬টি প্রকল্পের একটি পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে।
পর্ষদের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি নিকোলাই ম্লাদেনভ জানিয়েছেন, হামাসকে নিরস্ত্র করার বিষয়টি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অন্যতম শর্ত। তবে এ জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি।
গত জুলাইয়ে হামাসসহ গাজার অন্যান্য ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী নিরস্ত্রীকরণ পরিকল্পনায় সম্মত হয়েছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তখন এটিকে শান্তি ও নিরাপত্তার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তবে গাজায় পরিস্থিতির বড় ধরনের পরিবর্তন এখনো দেখা যায়নি। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও পুনর্গঠন শুরুর ক্ষেত্রে নানা চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। ইসরায়েল গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতিও পুরোপুরি বাস্তবায়ন করেনি।
এদিকে গাজায় ইসরায়েলি হামলাও অব্যাহত রয়েছে। খান ইউনিসে একটি গাড়িতে ড্রোন হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় চিকিৎসাকর্মীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহত দুজন হলেন ওসামা আবু খাতের ও মোহাম্মদ আবু এলওয়ান।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ওই হামলায় হামাসের একজন জ্যেষ্ঠ অর্থ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। তবে হামাসের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
গাজার মধ্যাঞ্চলীয় দেইর এল-বালাহ এলাকায় আরেকটি গাড়িতে হামলায় অন্তত দুজন নিহত হন। গাজা নগরীতেও পৃথক হামলায় আরও একজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
শান্তি পর্ষদের পরিকল্পনা অনুযায়ী পুনর্গঠনের জন্য বড় অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন হলেও চলমান হামলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে বাস্তবে কাজ শুরু করা এখনো কঠিন হয়ে আছে।