ভারতে কারাভোগ শেষে একই দিনে কুড়িগ্রামের দুটি সীমান্ত দিয়ে পাঁচ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। শুক্রবার তাঁদের মধ্যে তিনজনকে ভূরুঙ্গামারীর সোনাহাট সীমান্ত দিয়ে এবং দুজনকে রৌমারী সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ফেরত আনা হয়।
শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট সীমান্তে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এক নারীসহ তিন বাংলাদেশিকে বিজিবির সোনাহাট বিওপির সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করে। পরে তাঁদের ভূরুঙ্গামারী থানায় নেওয়া হয়।
ফেরত আসা তিনজন হলেন কুড়িগ্রামের কচাকাটা থানার সোভারকুটি গ্রামের আবদুর রহমানের ছেলে আবদুল জলিল (২৯), হাফেজ উদ্দিনের ছেলে মোজাফফর হোসেন (২২) এবং ঢাকার যাত্রাবাড়ীর গোলাপবাগ এলাকার নুর আহম্মেদের মেয়ে শারমীন বেগম (২৫)।
বিজিবি সূত্র জানায়, অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের অভিযোগে আসাম পুলিশ তাঁদের আটক করেছিল। পরে ভারতীয় আদালতের দেওয়া সাজা অনুযায়ী আবদুল জলিল ও মোজাফফর হোসেন ৩৩ মাস এবং শারমীন বেগম ২৮ মাস কারাভোগ করেন। সাজা শেষ হওয়ার পর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিএসএফ তাঁদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে। পরে স্বজনদের জিম্মায় তাঁদের দেওয়া হয়।
ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজিম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ফেরত আসা মোজাফফর হোসেন জানান, তিনি ও আবদুল জলিল এলাকায় নদীতে মাছ ধরার সময় কুয়াশার কারণে সীমান্তের অবস্থান বুঝতে পারেননি। এ সময় অসাবধানতাবশত তাঁরা ভারতের অংশে ঢুকে পড়েন। পরে বিএসএফ তাঁদের আটক করে।
এদিকে শুক্রবার বিকেল চারটার দিকে রৌমারী সদর ইউনিয়নের চর নতুনবন্দর গ্রামের স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে সাজা শেষে আরও দুই বাংলাদেশি দেশে ফেরেন।
তাঁরা হলেন শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার ভেলুয়া গ্রামের ওসমান বিন হাসান এবং কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের বেহুলার চর গ্রামের আবদুল হাই।
বিজিবি ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ৩৫ বিজিবি জামালপুর ব্যাটালিয়নের বাংলাবাজার বিওপির সদস্যরা ভারতের আসাম রাজ্যের মাইনকারচর সাহাপাড়া বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যদের কাছ থেকে ওই দুজনকে গ্রহণ করেন। প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে তাঁদেরও স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।