মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
৩১ ভাদ্র ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> বেক্সিমকোর শ্রমিকদের জীবনে অনিশ্চয়তা, কেউ চা বিক্রি করছেন, কেউ চালাচ্ছেন অটোরিকশা

>> মহাকাশযুদ্ধের প্রস্তুতি বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রকে চীনের আহ্বান

>> ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ড: পদদলিত হয়ে স্বজনদের মৃত্যুর দাবি

>> রাজস্থানে স্থানীয় নির্বাচনে বিজেপির কোনোরকমে ‘মুখরক্ষা’

>> এইডস-যক্ষ্মা-ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে ৪ হাজার ৩৯ কোটি টাকার প্রকল্প

>> চট্টগ্রামে ৬৩ বিদেশি নাগরিক রিমান্ডে

>> ২৮ বছরেও সংযোগ সড়ক হয়নি, অচল বুড়িচংয়ের সেতু

>> পাটের আঁশে লাভের আশা, ভালো ফলনে খুশি সাতক্ষীরার কৃষকেরা

>> রোগী পৌঁছে দিয়ে ফেরার পথে স্পিডবোট-বাল্কহেড সংঘর্ষ, নিহত ২

>> ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুন: পাঁচ সিঁড়ির চারটিই ছিল তালাবদ্ধ

আপনি পড়ছেন : বিশ্ব

রাজস্থানে স্থানীয় নির্বাচনে বিজেপির কোনোরকমে ‘মুখরক্ষা’


Rabeya ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ২:৫১



রাজস্থানে স্থানীয় নির্বাচনে বিজেপির কোনোরকমে ‘মুখরক্ষা’


ভারতের রাজস্থানে সদ্য শেষ হওয়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিজেপি সবচেয়ে বেশি ওয়ার্ডে জয় পেলেও কংগ্রেসের সঙ্গে তাদের ভোটের ব্যবধান খুবই সামান্য। ফলে সামগ্রিক ফলাফলকে বিজেপির জন্য বড় সাফল্যের বদলে কোনোরকমে ‘মুখরক্ষা’ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, মোট ১০ হাজার ২৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে বিজেপি জয় পেয়েছে ৪ হাজার ১৭৯টিতে। কংগ্রেসের দখলে গেছে ৩ হাজার ৬১৩টি ওয়ার্ড। আর নির্দলীয় প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন ২ হাজার ২৭৩টি ওয়ার্ডে। বাকি আসনগুলো পেয়েছে বিভিন্ন ছোট দল।

রাজস্থানের ৩০৯টি স্থানীয় সরকার সংস্থার মধ্যে বিজেপি ৮৬টিতে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। কংগ্রেস সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে ৪৬টি সংস্থায়। বাকি ১৭৭টি সংস্থায় কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। এসবের মধ্যে ৯৬টিতে বিজেপি এগিয়ে রয়েছে, ৬৯টিতে কংগ্রেস এগিয়ে এবং ১২টিতে দুই দল সমান অবস্থানে রয়েছে।

ভোটের হিসাবেও দুই দলের ব্যবধান খুব কম। বিজেপি পেয়েছে ৩৫ দশমিক ১৮ শতাংশ ভোট, অর্থাৎ ৩৭ লাখ ৩৫ হাজার ৫৬৭ ভোট। কংগ্রেসের ভোট ৩৪ দশমিক ২৪ শতাংশ, মোট ৩৬ লাখ ৩৫ হাজার ৯৫২। দুই দলের ভোটের ব্যবধান মাত্র শূন্য দশমিক ৯৪ শতাংশ বা ৯৯ হাজার ৬১৫ ভোট।

নির্দলীয় প্রার্থীদের ভোটও ছিল উল্লেখযোগ্য। তাঁরা পেয়েছেন ২৭ দশমিক ৩৮ শতাংশ ভোট, যা সংখ্যায় ২৯ লাখ ৬ হাজার ৭৮৭। কোনো প্রার্থীকেই ভোট না দেওয়ার হার ছিল ১ দশমিক ০৩ শতাংশ।

ছোট দলগুলোর মধ্যে রাষ্ট্রীয় লোকতান্ত্রিক পার্টি পেয়েছে শূন্য দশমিক ৯৪ শতাংশ, আম আদমি পার্টি শূন্য দশমিক ৪৬ শতাংশ, সিপিআই (এম) শূন্য দশমিক ৩২ শতাংশ, বহুজন সমাজ পার্টি শূন্য দশমিক ২৮ শতাংশ এবং ভারত আদিবাসী পার্টি পেয়েছে শূন্য দশমিক ১৩ শতাংশ ভোট।

রাজস্থানে ৯ ও ১১ সেপ্টেম্বর দুই দফায় ৩০৯টি স্থানীয় সরকার সংস্থায় ভোট অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ছিল ১০টি পৌরনিগম, ৫১টি পৌরপরিষদ ও ২৪৮টি পৌরসভা। মোট ১০ হাজার ২৪৫টি ওয়ার্ডে ভোট হওয়ার কথা থাকলেও ১০ হাজার ২৪৪টির ফল প্রকাশ করা হয়েছে।

নির্বাচনী প্রচারে বিজেপি দলের একাধিক প্রভাবশালী নেতাকে মাঠে নামিয়েছিল। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং রাজ্য বিজেপির সভাপতিসহ শীর্ষ নেতারা প্রচারে অংশ নেন। তবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রত্যাশিত ফল পায়নি দলটি।

সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজের জেলা ঝালওয়ারে ৪৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৯টিতে জয় পেয়েছে কংগ্রেস। রাজ্য বিজেপির সভাপতি মদন রাঠোরের পালি পৌরসভাতেও ৬৫টি আসনের মধ্যে কংগ্রেস পেয়েছে ২৯টি আসন।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়ালের জেলা বিকানিরেও বিজেপি পরাজিত হয়েছে। আর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াতের জেলা যোধপুরে বিজেপি ও কংগ্রেস সমানসংখ্যক—৪৪টি করে আসন পেয়েছে। ফলে সেখানে বোর্ড গঠনে নির্দলীয় সদস্যদের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সম্প্রতি নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে অনুষ্ঠিত বড় বিক্ষোভে রাজস্থানের তরুণ ও শিক্ষার্থীদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ ছিল। সেই আন্দোলনের পর অনুষ্ঠিত স্থানীয় নির্বাচনেও তরুণ ভোটারদের মনোভাবের প্রভাব পড়েছে বলে বিরোধীদের দাবি।

বেকারত্ব, কর্মসংস্থানের সংকট এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির মতো বিষয়গুলো ভোটারদের মধ্যে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছে কংগ্রেস। তাদের দাবি, বিজেপির বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ ভোট দিয়েছে।

এই নির্বাচনে বামপন্থী দলগুলোরও কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত মিলেছে। বিকানির জেলার নোখা পৌরসভা দখলে নিয়েছে সিপিআই (এম)। অন্যদিকে বারান জেলার বারান পৌরসভায় জয় পেয়েছে আম আদমি পার্টি।

রাজস্থান কংগ্রেসের সভাপতি গোবিন্দ সিং দোতাসারা দাবি করেছেন, আগের নির্বাচনে বিজেপির তুলনায় কংগ্রেসের ভোটের ব্যবধান ছিল প্রায় ৮ শতাংশ। এবার সেই ব্যবধান কমে এক শতাংশের নিচে নেমে এসেছে।

রাজস্থানে পরবর্তী রাজ্যসভা নির্বাচন হবে দুই বছর পর। তার আগে স্থানীয় নির্বাচনের ফল বিজেপির জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে কংগ্রেসের ভোটের ব্যবধান কমে আসা, নির্দলীয়দের শক্ত অবস্থান এবং ছোট দলগুলোর কিছু এলাকায় সাফল্য রাজ্যের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।