জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর সরকার বাসের ভাড়া বাড়িয়েছে। তবে রাজধানীর বিভিন্ন রুটে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ৫ থেকে ১০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে অনেক ক্ষেত্রে যাত্রীদের সঙ্গে বাসের চালকের সহকারীদের বাগ্বিতণ্ডাও হচ্ছে।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর ঢাকা মহানগরে বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বাড়িয়ে ২ টাকা ৭০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে কাগজে-কলমে ভাড়া বেড়েছে ৬ দশমিক ৭২ শতাংশ। তবে বাস্তবে বিভিন্ন রুটে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি নেওয়া হচ্ছে।
গত রোববার দেশে ডিজেল, পেট্রল ও অকটেনের দাম ২০ টাকা বাড়ানোর প্রজ্ঞাপন জারি করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। এরপর মঙ্গলবার সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ বাসের নতুন ভাড়া নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। তবে এর আগেই বিভিন্ন রুটে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যায়।
গতকাল বুধবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে। ধানমন্ডি থেকে গুলিস্তান পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার পথে আগে ২০ টাকা ভাড়া নেওয়া হলেও একটি বাসে ২৫ টাকা আদায় করা হচ্ছিল। এ নিয়ে কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে বাসকর্মীদের বাগ্বিতণ্ডা হয়।
এ ছাড়া ভাটারার নতুনবাজার থেকে গুলিস্তান যাওয়া এক যাত্রীর কাছ থেকে ৩০ টাকার পরিবর্তে ৪০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পল্টন থেকে কারওয়ান বাজার রুটেও ১০ টাকার পরিবর্তে ১৫ টাকা চাওয়া হয়েছে।
যাত্রীদের কয়েকজন জানান, মৌমিতা ও ঠিকানা পরিবহনসহ বিভিন্ন বাসে গন্তব্য অনুযায়ী ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান বলেছেন, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ঠেকাতে ভ্রাম্যমাণ আদালতসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে প্রায় সাত হাজার অনুমোদিত বাস রয়েছে। এসব বাস প্রায় ৩০০টি কোম্পানির অধীনে পরিচালিত হয় এবং মালিকের সংখ্যা চার হাজারের বেশি।
পরিবহন খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বাস মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের দৈনিক চুক্তির ব্যবস্থা থাকায় অনেক সময় বাড়তি ভাড়া আদায়ের প্রবণতা তৈরি হয়। পাশাপাশি নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিও বাসশ্রমিকদের জীবনযাত্রায় চাপ তৈরি করছে।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, বাসের ভেতরে দৃশ্যমান স্থানে বাসের নাম, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা টাঙানো থাকলে যাত্রীরা সহজে অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়ে অভিযোগ করতে পারবেন। এতে বাড়তি ভাড়া আদায় নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হতে পারে।