ঢাকার সাভারে সড়কের পাশে থামিয়ে রাখা একটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় বাসমালিক ও সাংবাদিকসহ ৪০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গত সোমবার রাতে সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্বাস উদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলাটি বিস্ফোরক আইনে করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
মামলার এজাহারে আসামিদের স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও শ্রমিক লীগের নেতা-কর্মী ও সমর্থক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে হাবিবুর রহমান ওরফে হৃদয়কে সাভার পরিবহনের মালিক, ছাত্রলীগের সমর্থক এবং ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুরাদ জংয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় সাংবাদিক মো. কামরুজ্জামানের নামও রয়েছে। তিনি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) স্থায়ী সদস্য এবং টাইমস অব বাংলাদেশের সিনিয়র রিপোর্টার। কামরুজ্জামানের দাবি, তিনি ঢাকায় থাকেন এবং বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
এজাহারে পুলিশের বক্তব্য
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত সোমবার রাত ২টা ৪০ মিনিটের দিকে সাভারের রেডিও কলোনি ইউটার্ন এলাকায় দায়িত্বে ছিলেন এসআই আব্বাস উদ্দিন। স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে তিনি পুলিশ নিয়ে রেডিও কলোনি স্টাফ কোয়ার্টারের কাছে যান।
পুলিশের দাবি, সেখানে ঢাকা–আরিচা মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে একটি বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে আগুন দেওয়ার ঘটনা দেখতে পান তারা। পুলিশ পৌঁছানোর পর অধিকাংশ ব্যক্তি মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস ও আশপাশের রাস্তা দিয়ে পালিয়ে যান। পরে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, স্থানীয় লোকজন ও গোপন সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে বাসমালিক হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে বাসটিতে অগ্নিসংযোগের পরিকল্পনা ও সহায়তার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য মুরাদ জং ও বিরুলিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সেলিম মণ্ডলের নামও এজাহারে এসেছে।
পুলিশ জানায়, ঘটনার রাতেই সাভারের আকরাইন বাজার এলাকা থেকে সাভার সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ ও অগ্নিসংযোগের কথা স্বীকার করেছেন।
সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম বলেন, মামলায় ৪০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তদন্তে কারও বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ না পাওয়া গেলে তাঁকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
সাংবাদিককে আসামি করায় ডিআরইউর প্রতিবাদ
সাংবাদিক কামরুজ্জামানকে মামলায় আসামি করায় প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি। সংগঠনটির সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান এক বিবৃতিতে বলেন, এজাহারে কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও তাঁর কথিত সম্পৃক্ততার প্রমাণ কী, তা স্পষ্ট নয়।
ডিআরইউ বলেছে, কোনো সাংবাদিককে হয়রানি বা পেশাগতভাবে চাপ দেওয়ার উদ্দেশ্যে মামলা ব্যবহার করা হলে তা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য উদ্বেগের বিষয়। সংগঠনটি কামরুজ্জামানের বিষয়ে যথাযথ তদন্ত এবং সুনির্দিষ্ট ও যাচাইযোগ্য তথ্য-প্রমাণ ছাড়া কোনো হয়রানিমূলক পদক্ষেপ না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।