গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের চলমান বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ১১ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন করেছে জেলা প্রশাসন। মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাঁরা কাজ করছেন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে গাজীপুরের নাওজোর এলাকায় আগুন জ্বালিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেন বিক্ষোভকারী শ্রমিকরা। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দিগন্ত সোয়েটার কারখানার সামনে অবস্থান নিয়ে তাঁরা অবরোধ শুরু করেন। পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে আশপাশের অন্তত ২৫টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকালে দিগন্ত সোয়েটার কারখানার সামনে শ্রমিকরা জড়ো হন। পরে মহাসড়কের পাশ থেকে ময়লা-আবর্জনা ও বিভিন্ন বর্জ্য এনে সড়কের ওপর স্তূপ করে তাতে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে জয়দেবপুর চৌরাস্তা থেকে নাওজোর মোড় পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বাস ও ট্রাকের পাশাপাশি মোটরসাইকেল এবং অটোরিকশা চলাচলেও বাধা দেওয়া হয়।
এ সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন সাংবাদিকরা। আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলা এবং ছবি ও ভিডিও ধারণের চেষ্টা করলে তাঁদের বাধা দেওয়া হয়।
গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া ও রিসার্চ সেল) মো. আরিফ হোসাইন জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিজিবি টহল দিচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, মঙ্গলবার সকাল ৮টার কিছু আগে কোনাবাড়ী ও কালিয়াকৈরের মৌচাক এলাকায় কয়েকজন শ্রমিক ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত তাঁদের বুঝিয়ে কোনো সংঘাত ছাড়াই সড়ক থেকে সরিয়ে দেন।
তিনি আরও জানান, মহাসড়কের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ ও যৌথ বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।