ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত উদয়ন উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে বিকৃত করা, অশ্লীল বার্তা পাঠানো এবং ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করায় একই শ্রেণির ১০ শিক্ষার্থীকে প্রায় ২৫ দিন ধরে নিয়মিত পাঠদান থেকে দূরে রাখার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর শাস্তিসহ পাঁচ দফা দাবিতে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে সহপাঠী ছাত্রীদের সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ, শরীরের সংবেদনশীল অঙ্গ নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এবং ধর্ষণের হুমকি দিয়ে আসছিল। সম্প্রতি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কয়েকজন ছাত্রীর আপত্তিকর ছবি তৈরি করে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে। এসব বিষয়ে বিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি শিক্ষার্থীদের।
ভুক্তভোগীদের দাবি, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী তাসনিম মুনিম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিনের ছেলে। গত অক্টোবরের শুরুতে শিক্ষার্থীরা এসব ঘটনার প্রতিবাদ জানালে অভিযুক্তের বাবা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই সহকারী প্রক্টর বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।
এরপর গত ৮ অক্টোবর পরীক্ষা চলাকালে প্রতিবাদী ১০ শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তাদের কাছ থেকে লিখিত বক্তব্য নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
তাদের দাবি, এরপর থেকে প্রায় ২৫ দিন ধরে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। প্রতিবাদ চালিয়ে গেলে টিসি দেওয়া এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
মঙ্গলবার সকালে এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করতে গেলে কর্তৃপক্ষ তাদের শ্রেণিকক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখে বলে অভিযোগ ওঠে। পরে তালা ভেঙে বেরিয়ে এসে প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ করেন তারা। এ সময় ‘হয়রানিমুক্ত স্কুল চাই’ এবং ‘ওর বাবা ডিন হলে আমাদের কি বাবা রিকশাওয়ালা?’ লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।
শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া, প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের হয়রানি বন্ধ করা, পাঠদান থেকে বঞ্চিত ১০ শিক্ষার্থীকে দ্রুত শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে নেওয়া এবং প্রভাবমুক্ত স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন।
এদিকে, ঘটনা তদন্তে বিদ্যালয় প্রশাসনের গঠিত কমিটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই সহকারী প্রক্টরকে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, ওই দুই সহকারী প্রক্টর বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁদের একজন অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর প্রতিবেশী। এ ছাড়া তদন্তের নামে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া এবং ভুক্তভোগীদের পরিবারকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও তুলেছেন তারা।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, তদন্তের স্বার্থে ওই শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষের বাইরে রাখা হয়েছে। তবে তদন্ত কমিটি নিয়ে শিক্ষার্থীদের অনাস্থার বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন। এ বিষয়ে উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা করে মঙ্গলবারই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানান তিনি।
ভুক্তভোগীদের পরিবারকে চাপ দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ বলেন, বিষয়টি তদন্ত কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হবে। কাউকে হয়রানি করা হবে না বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।