ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ভারতের নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় দিবসটির ঐতিহাসিক তাৎপর্য, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন ও পররাষ্ট্রনীতি, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
শনিবার (৭ নভেম্বর) আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব বিষয়ে বক্তব্য দেন হাইকমিশনের মিনিস্টার (প্রেস) সাইদুর রহমান।
নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার প্রীতি রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির বাণী পাঠ করেন কমার্স কাউন্সিলর ইফতেখারউদ্দিন শামীম ও সহকারী ডিফেন্স অ্যাডভাইজার লেফটেন্যান্ট কর্নেল রুমন পারভেজ। মিশনের এইচওসি মাহমুদুল হক অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন। এ সময় হাইকমিশনের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় হাইকমিশন প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়।
আলোচনা সভায় সাইদুর রহমান বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি ও জনতা একসঙ্গে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছিলেন। ‘সিপাহী-জনতা ভাই ভাই, জিয়ার মুক্তি চাই’ স্লোগানে রাজপথ মুখর করে তাঁরা জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করেন। এ ঐতিহাসিক দিনের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
হাইকমিশনের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ৭ নভেম্বরের ঘটনা শুধু দেশের ইতিহাস ও সার্বভৌমত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় না, পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনার পথও তুলে ধরে।
তিনি দাবি করেন, জিয়াউর রহমানের শাসনামলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কূটনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণে অগ্রগতি অর্জন করে। ভারত ও রাশিয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার হয়। এ সময় বহু মুসলিম দেশ ঢাকায় নিজেদের দূতাবাস স্থাপন করে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সাইদুর রহমান বলেন, জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ১৯৭৮ সালে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য নির্বাচিত হয়। এ ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা, শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে তিনি দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সেই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ১৯৮৫ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে সার্ক প্রতিষ্ঠিত হয় বলে বক্তব্যে উল্লেখ করেন তিনি।
বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে সাইদুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বাবা-মায়ের আদর্শ ধারণ করে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ভিত্তিতে কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ভারতসহ বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান, আস্থা, সমতা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও জোরদার করাই সরকারের লক্ষ্য।
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ককে ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস ও সহযোগিতার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও গভীর ও অর্থবহ হবে বলে তাঁরা আশা করেন। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে কূটনীতিকদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।