বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ৫, ২০২৬
২১ কার্তিক ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> রাজধানীতে হাঁড়ি-পাতিল হাতে জামায়াতের বিক্ষোভ, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ

>> জামায়াতের কাছে সহায়তা চেয়েও পাননি, শিবিরকর্মীকে চাকরি দিলেন প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

>> শামীম হত্যা মামলায় যুবদল নেতা ভদুর তিন দিনের রিমান্ড

>> শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে সরকারের ব্যর্থতায় ঝুঁকিতে শিল্প খাত: এবি পার্টি

>> জামিনের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়ায় সাংবাদিকের সঙ্গে পরীমনির বাগ্‌বিতণ্ডা

>> মিরপুরে ২০টি ককটেলসহ মশাল লাঠি ও কেরোসিন উদ্ধার

>> কুর্মিটোলায় পুলিশের টহল গাড়ি লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ, আহত কনস্টেবল

>> শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে সহিংসতা, সরকারকে চাপে ফেলার অভিযোগ

>> কর্মস্থলে ফিরেছেন পোশাকশ্রমিকেরা, শিল্পাঞ্চলে মোতায়েন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

>> এক দিনের সফরে মোংলায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, খুলনায়ও রয়েছে কর্মসূচি

আপনি পড়ছেন : রাজনীতি

রাজধানীতে হাঁড়ি-পাতিল হাতে জামায়াতের বিক্ষোভ, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ


Sifat Islam Sohag ৫ নভেম্বর ২০২৬, বিকাল ৫:১৯



রাজধানীতে হাঁড়ি-পাতিল হাতে জামায়াতের বিক্ষোভ, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ


জ্বালানি গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় উত্তর বাড্ডায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে নারীদের হাঁড়ি-পাতিল ও এলপিজি গ্যাসের ফেস্টুন হাতে অংশ নিতে দেখা যায়।

বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলে নেতৃত্ব দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়রপ্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক কোনো স্বার্থে নয়, জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়ের দাবিতে তারা কর্মসূচি পালন করছেন। বাজারে গিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা ও অস্বস্তি দেখা যাচ্ছে। মানুষের আয় বাড়ার সঙ্গে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কোনো সামঞ্জস্য নেই। জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়লেও সেই অনুপাতে মানুষের আয় বাড়ছে না।

মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, বাজারের সিন্ডিকেট ভেঙে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ন্যায্যমূল্যে সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। কৃষক, শ্রমিক ও নারীদের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটাতে হবে এবং মানুষের সামর্থ্যের মধ্যে পণ্যের দাম রাখতে হবে।

সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, শুধু কার্ড বিতরণ করে জনগণের অসন্তোষ দূর করা সম্ভব নয়। মানুষের আস্থা অর্জন করতে না পারলে ক্ষমতায় টিকে থাকাও কঠিন হবে।

গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে জামায়াতের এই নেতা বলেন, শ্রমিকেরা বেতন বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন, যা অন্যায় নয়। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা বিবেচনায় নিলে শ্রমিকদের ওপর লাঠিচার্জ করা উচিত হয়নি। একজন শ্রমিককে প্রাণও হারাতে হতো না বলে মন্তব্য করেন তিনি। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়া, হয়রানি বন্ধ, চাকরিচ্যুতি না করা এবং যথাসময়ে বেতন পরিশোধের আহ্বান জানান তিনি।

তবে শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গাড়ি ভাঙচুর ও কারখানায় অগ্নিসংযোগের মতো কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। তিনি বলেন, ন্যায্য দাবির আন্দোলনের সঙ্গে এসব কর্মকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক নেই। কোনো তৃতীয় পক্ষ যেন শ্রমিকদের ব্যবহার করে আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি শ্রমিকদের আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, চলমান শ্রমিক আন্দোলনে কারা ভাঙচুর ও নাশকতার চেষ্টা করছে, তা সরকারকে খুঁজে বের করতে হবে। একই সঙ্গে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসে ন্যায্য দাবি পূরণের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে সরকার বিভাজন তৈরি করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার মতে, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে সবার অংশগ্রহণে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ পরিচালনা করা উচিত ছিল। দেশের মানুষের বাস্তব জীবনমানের উন্নয়ন ছাড়া কেবল উন্নয়নের প্রচার গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ইয়াসিন আরাফাত এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরীর প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য জামাল উদ্দিন, মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার নোমান আহমেদি, মাওলানা কুতুবউদ্দিন, ফজলে আহমেদ ও মিজানুর রহমান খানসহ অন্য নেতাকর্মীরা।

উত্তর বাড্ডা ব্রিজের নিচে সমাবেশ শেষে একটি বড় মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাড্ডা ইউলুপের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এতে শত শত নারী হাঁড়ি-পাতিল ও এলপিজি গ্যাসের ফেস্টুন হাতে অংশ নেন।