আমজনতা দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান জানিয়েছেন, ছাত্রদলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার মধ্য দিয়েই তাঁর রাজনৈতিক পথচলার সূচনা। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ছাত্রদলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ, কোটা সংস্কার আন্দোলনে ভূমিকা এবং পরবর্তী সময়ে একাধিক রাজনৈতিক সংগঠন গঠনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন তিনি।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে রাজনৈতিক জীবনের শুরুর দিকের নানা স্মৃতি তুলে ধরেন তারেক রহমান।
স্ট্যাটাসে তিনি জানান, ২০১১ সালে ছাত্রদলের মিছিলে সামনের সারিতে থেকে তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতেন। ২০১৩ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নিতে ঢাকায় এসে হামলার শিকার হওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। ২০১৪ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হরতাল ও অবরোধের কর্মসূচিতেও সক্রিয় ছিলেন বলে জানান।
পরবর্তী সময়ে রাজনীতি থেকে কিছুটা দূরে সরে পড়াশোনার পাশাপাশি ব্যবসায় যুক্ত হন তারেক রহমান। তবে ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে আবারও সক্রিয় হন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই আন্দোলনের উদ্যোগ নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের সংগঠিত করার কাজে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
আন্দোলনের প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি জানান, ঢাকার পাবলিক লাইব্রেরিতে পড়াশোনার সময় হাতে লেখা লিফলেট শিক্ষার্থীদের টেবিলে রেখে আন্দোলনের পক্ষে প্রচার চালাতেন। এ কাজে কয়েকটি লাইব্রেরির সহযোগিতা পেয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বিশেষ করে কনফিডেন্সের সানোয়ার স্যারের সহযোগিতার কথা স্মরণ করেন তারেক।
তারেক রহমানের দাবি, ২০১৮ সালের ১৪ মার্চ তিনি ৫৪ জনের সঙ্গে আটক হওয়ার পর তাঁদের মুক্তির দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করা হয়েছিল। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ছাত্রদলকর্মীদের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয় বলে তাঁর স্ট্যাটাসে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই ঘটনাকে তিনি কোটা সংস্কার আন্দোলনের শুরুর দিকের রাজপথের প্রতিবাদগুলোর একটি হিসেবে বর্ণনা করেন।
তিনি আরও জানান, পরবর্তী সময়ে নুরুল হক নুর, রাশেদ খান, দীন মোহাম্মদসহ কয়েকজনের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক যোগাযোগ ও আন্দোলনকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ড বিস্তৃত হয়। এসব অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় ছাত্র অধিকার পরিষদ এবং পরে যুব, গণ ও প্রবাসী অধিকার পরিষদ গঠনের প্রক্রিয়ায় যুক্ত হন তিনি। মতপার্থক্য ও ভুল-বোঝাবুঝির কারণে একপর্যায়ে আলাদা হয়ে যান বলেও উল্লেখ করেন।
বর্তমানে আমজনতা দলের সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করা তারেক রহমান বলেন, দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা বিকাশে মিয়া মশিউজ্জামান স্যারের ভূমিকা রয়েছে। পাশাপাশি নিজের জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক আদর্শের শিকড় হিসেবে ছাত্রদল এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আদর্শের কথা তুলে ধরেন তিনি।
স্ট্যাটাসে ভারতবিরোধী পণ্য বর্জন আন্দোলন, এক দফার যুগপৎ আন্দোলন এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময়কার কর্মকাণ্ডের কথাও উল্লেখ করেন তারেক রহমান। এসব কর্মসূচিতে তাঁর ভূমিকা ও রাজনৈতিক যোগাযোগ সম্পর্কে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি।
এর আগে রোববার (২৫ অক্টোবর) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শুভ এক ফেসবুক পোস্টে জানান, তারেক রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ছাত্রদলের সদস্য ছিলেন। একই সঙ্গে ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন আন্দোলন ও হরতাল-অবরোধের কর্মসূচিতে তাঁর অংশগ্রহণের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবনের শুরুর দিকের এসব স্মৃতিচারণে ছাত্রদলের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা, কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশগ্রহণ এবং পরবর্তী রাজনৈতিক সংগঠন গঠনের অভিজ্ঞতা উঠে এসেছে।