আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সামরিক সমন্বয় নিয়ে আলোচনা করতে ইরানের রাজধানী তেহরানে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের শীর্ষ কর্মকর্তারা। সোমবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা এই বৈঠকের বিষয়ে রয়টার্সকে তথ্য দিয়েছেন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই ব্যক্তি।
বৈঠকে সৌদি আরবের প্রতিনিধিত্ব করার কথা রয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমানের। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে অংশ নেবেন দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। পাশাপাশি তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধানও বৈঠকে যোগ দিতে পারেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের একজন।
ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুতি গোষ্ঠীর হামলা বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার ঘটনাও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিভুক্ত দেশগুলোর মন্ত্রীরা জরুরি বৈঠক করেন। সেখানে সৌদি আরবে দ্রুত সামরিক বাহিনী ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা মোতায়েনের বিষয়ে একমত হন তাঁরা।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও।
গত আগস্টে তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করে। চুক্তি অনুযায়ী, কোনো সদস্য দেশের ওপর সশস্ত্র হামলাকে অন্য সদস্যদের ওপর হামলা হিসেবেও বিবেচনা করা হবে। এতে সদস্য দেশগুলোর ভূখণ্ডের অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
চুক্তিটি অনুমোদনের প্রক্রিয়া তুরস্কের পার্লামেন্টে শুরু হয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তান গত সপ্তাহে চুক্তিটি অনুমোদন করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।