রবিবার, অক্টোবর ২৫, ২০২৬
১০ কার্তিক ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> বিআরটিসির ঢাকা ট্রাক ডিপোতে অর্থ লোপাটের অভিযোগ, মোশারফকে ঘিরে প্রশ্ন

>> প্রেমের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ, হানিট্র্যাপ চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার

>> সৌদি আরবে এক সপ্তাহে প্রায় ১৪ হাজার গ্রেপ্তার

>> আসিফ আকবরের গাড়িতে গুলি, মামলা হলেও শনাক্ত হয়নি হামলাকারী

>> আনিসুল হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলার চার্জশিট গ্রহণ, তিন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

>> ৬ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার, ক্রয় প্রস্তাবে অনুমোদন

>> জাতীয় নারীশক্তির নতুন আংশিক কমিটি ঘোষণা, ১৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি

>> ব্রাসেলসে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, আটক ৯

>> ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা, গোপালগঞ্জে আহত ২

>> সৌদি আরবের বিরুদ্ধে প্রচারযুদ্ধে এপস্টিনের নথি ব্যবহার করছে হুতিরা

আপনি পড়ছেন : এক্সক্লুসিভ

বিআরটিসির ঢাকা ট্রাক ডিপোতে অর্থ লোপাটের অভিযোগ, মোশারফকে ঘিরে প্রশ্ন


Sifat Islam Sohag ২৫ অক্টোবর ২০২৬, বিকাল ৪:৩৯



বিআরটিসির ঢাকা ট্রাক ডিপোতে অর্থ লোপাটের অভিযোগ, মোশারফকে ঘিরে প্রশ্ন


স্টাফ রিপোর্টার

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) ঢাকা ট্রাক ডিপোর কেনাকাটা, জ্বালানি ব্যবহার, যানবাহন মেরামত ও কর্মীদের বদলি-পদায়ন নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ডিপোটির অপারেশন ম্যানেজার মো. মোশারফ হোসেন ছিদ্দিকীকে ঘিরে এসব অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও আর্থিক হিসাব নিরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা—যদিও এ বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের ফলাফল বা অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।

সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পণ্য পরিবহন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খাদ্য ও সার পৌঁছে দেওয়া এবং দুর্যোগের সময় জরুরি সহায়তা সরবরাহে ঢাকা ট্রাক ডিপোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পরিবহন ধর্মঘট বা অন্যান্য সংকটেও সরকারি সেবা সচল রাখতে প্রতিষ্ঠানটি দায়িত্ব পালন করে। পাশাপাশি যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত, খুচরা যন্ত্রাংশ কেনা এবং পরিবহনসংক্রান্ত চুক্তি পরিচালনার দায়িত্বও এ ডিপোর ওপর রয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ডিপোটিতে বর্তমানে ২৫৮টি ট্রাক ও ৩৬৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। তবে ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে এর কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

যন্ত্রাংশ কেনাকাটা ও মেরামতের ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন

অভিযোগ রয়েছে, ট্রাক মেরামত ও খুচরা যন্ত্রাংশ কেনার ক্ষেত্রে নিম্নমানের বা পুরোনো যন্ত্রাংশ বেশি দামে কেনার হিসাব দেখানো হয়। পাশাপাশি জ্বালানি তেল, সড়ক ও ফেরি টোলের খরচে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরির মাধ্যমে সরকারি অর্থ উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এসব অনিয়মে চালক ও প্রশাসনের কিছু সদস্যের যোগসাজশ থাকতে পারে। তবে অভিযোগগুলোর পক্ষে নির্দিষ্ট বিল, ক্রয়াদেশ, নিরীক্ষা প্রতিবেদন কিংবা তদন্তের নথি দেওয়া হয়নি।

জ্বালানি খরচে অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ

জ্বালানি খাতেও অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়েছে। প্রতিবেদনে উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, কোনো ট্রিপে একটি ট্রাকে বাস্তবে ১০০ লিটার ডিজেল ব্যবহার করা হলেও নথিতে ১৫০ লিটার দেখানো হতে পারে। অতিরিক্ত জ্বালানির বিল অনুমোদনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আর্থিক সুবিধা নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ধরনের অভিযোগ যাচাই করতে ট্রাকের চলাচল রেকর্ড, জ্বালানি সরবরাহের রসিদ, ট্রিপ শিট, বিল-ভাউচার ও অনুমোদনকারী কর্মকর্তাদের নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

চার বছরে মেরামত ও যন্ত্রাংশে ব্যয় প্রায় সাড়ে ৯ কোটি টাকা

প্রতিবেদনে দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চার বছরে ঢাকা ট্রাক ডিপোর যানবাহন মেরামত ও যন্ত্রাংশ কেনায় মোট ৯ কোটি ৪৯ লাখ ১ হাজার ৮১১ টাকা ব্যয় হয়েছে।

এই ব্যয়ের প্রায় ৭০ শতাংশ ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে এ দাবির সমর্থনে কোনো নিরীক্ষা বা তদন্ত প্রতিবেদনের উল্লেখ নেই। ফলে আর্থিক অনিয়মের প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই জরুরি।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মেরামতের কাজ সম্পন্ন দেখানো হলেও কিছু ট্রাক অচল বা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকতে পারে। বিষয়টি যাচাই করতে মেরামতের কার্যাদেশ, যন্ত্রাংশ কেনার রসিদ এবং যানবাহনের বর্তমান অবস্থা পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

বদলি ও পদায়ন নিয়েও অভিযোগ

ডিপোর কর্মীদের বদলি, পোস্টিং ও দায়িত্ব বণ্টনেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পছন্দের রুট বা সুবিধাজনক দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, অর্থ দিতে না পারা কর্মীদের কম সুবিধাজনক রুটে পাঠানো হয়।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে বদলি ও পদায়নের আদেশ, সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বক্তব্য এবং প্রশাসনিক নথি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

ঢাকা ট্রাক ডিপোর আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলো যাচাই করতে স্বচ্ছ তদন্ত, হিসাব নিরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে জ্বালানি খরচ, মেরামত, যন্ত্রাংশ কেনাকাটা ও বদলি-পদায়নের নথি পরীক্ষা করে অনিয়মের প্রকৃত চিত্র নির্ধারণ করা যেতে পারে।

অভিযোগের বিষয়ে অপারেশন ম্যানেজার মো. মোশারফ হোসেন ছিদ্দিকীর বক্তব্য এবং বিআরটিসি কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হলে সংশ্লিষ্টদের অবস্থান স্পষ্ট করার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করা যেতে পারে।